খোলাবাজারে চাল বিক্রি- ১১ দিন ধরে চাল কিনতে পারছেন না হাওরবাসী

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য গোদামে চাল সরবরাহ না থাকায় ১১ দিন ধরে খোলাবাজারে চাল কিনতে পারছেন না হাওরবাসী। তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে একজনসহ মোট ৮ জন ডিলার উপজেলার ৮টি পয়েন্ট থেকে খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করে আসছেন। খোলা বাজারে চাল বিক্রির সরকারী নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত ২৮ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত টানা ১১ দিন ধরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। হাওরপাড়ের ফসলহারা কৃষকগণ প্রতিদিনই সকালবেলা খোলা বাজারে চাল বিক্রির পয়েন্টগুলোতে দাঁড়িয়ে ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করার পর তারা চাল না নিয়েই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। অপরদিকে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ১৭ হাজার ছয় জন ফসলহারা কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ভিজিএফের ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫শ’ টাকা বিগত ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে ৫১০ দশমিক ১৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৮৫ লক্ষ ৩ হাজার টাকা সরকার বিতরণ করে আসছিল। কিন্তু ডিসেম্বর মাসের চাল ও টাকা পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বিতরণ করা হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী   ফারুক মিয়া বললেন, খাদ্য গোদামে চাল আসছে। কিন্তু উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে বরাদ্দ না পাওয়ায় টাকা ছাড় করতে পারছে না। এ জন্য ডিসেম্বরের ভিজিএফের ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫শ টাকা বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাহিরপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সিনিয়র অডিটর জসিম উদ্দিন বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিসের সার্ভারে সমস্যা থাকার কারণে টাকার বরাদ্দ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তাহিরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, উপজেলার ৭ ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ভিজিএফের চাল মজুদ রয়েছে। খোলা বাজারে চাল বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, খোলাবাজারে চাল বিক্রির সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। খাদ্য গোদামে চাল মজুদ না থাকায় আপাতত ওএমএস ডিলারদের চাল দেয়া বন্ধ রয়েছে।