খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ পবিত্র শুক্রবার থেকে শুরু হলো সংযম সাধনার মাহে রমজান। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য কিছু দেশে বৃহস্পতিবার থেকে রমজান শুরু হলেও বাংলাদেশ চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে আমাদের দেশে আজ থেকে রমজান মাস শুরু হলো। সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে এই মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। দিনের বেলা যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থেকে সংযম সাধনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করেন মুসল্লীরা এ মাসে। এই আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তাঁরা যেমন সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ মান্য করাসহ তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন তেমনি দিনব্যাপী উপবাস পালন করে দেহকে সংযমী রাখার মধ্য দিয়ে ভিতরের মন্দ উপসর্গকে বিদায় করার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকেন। পবিত্র এই মাসের শুভলগ্নে আমরা মুসলমান ধর্মাবলম্বী সকলের মঙ্গল কামনা করি।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী কয়েকদিন আগে ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়ে এই মাসে কম লাভ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এই পরামর্শের পর ব্যবসায়ীরা খুব বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছেন এমন কোন নিদর্শন দেখিনি আমরা। বরং দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়ে গেছে। রমজান মাসে পেঁয়াজ, ছোলা, ভোজ্যতৈলসহ বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাহিদাকে আমাদের দেশের মুনাফাখোর আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের মোক্ষম উপকরণ মনে করে এইসব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই আড়ৎদার বা ব্যবসায়ীরা মোটেই চিন্তা করেন না যে, দাম বাড়ানোর মধ্য দিয়ে মূলত তারা পবিত্র রমজান মাসের মূল আদর্শকেই অস্বীকার করছেন। আত্মসংযমের পরিবর্তে এরা আত্মস্বার্থে লিপ্ত হয়ে যান। আমরা আশা করব এবার তাঁদের মধ্যে গভীর আত্মোপলব্ধির জাগৃতি ঘটবে এবং তাঁরা রোজাদারদের বিড়ম্বনা ও কষ্ট কমানোয় ভূমিকা রাখবেন।
সরকার নিজের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু সরকারি এইসব রুটিন কর্মপদ্ধতি খুচরা বাজারে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে থাকেন পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। রমজানে যেসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তার অধিকাংশই গুটিকয় বৃহৎ ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকার যদি উৎস অর্থাৎ পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন তাহলে খুচরা বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব স্থানীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে।
রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারির সময় যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকে সেদিকে নজর রাখার জন্য আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাই। এবার ভর গ্রীষ্মে রমজান মাস পড়েছে। বৃষ্টি না হলে অত্যধিক গরম থাকবে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে অনেকে বাজার থেকে ইফতার সামগ্রী কিনে থাকেন। বাহারী ইফতারের স্বাদ পেতে বাজারের ইফতার সামগ্রীর প্রতি একটি বাড়টি আকর্ষণ তৈরি হয়। বাজারে যেসব ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে সেগুলোর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি সতর্ক নজরদারিতে রাখতে হবে তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তবে আশার কথা হলো এবার রমজানে বাজারে প্রচুর ফলফলাদির সরবরাহ থাকবে। আর জানা কথা হলো, জ্যেষ্ঠ মাসের এই ফলফলাদি অতিশয় স্বাস্থ্যপ্রদ।
সকলকে আবারও পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা।



আরো খবর