গাড়ির ষ্টিয়ারিংয়েই মৃত্যু হলো চালক শফিকের

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
মালামাল পৌঁছে দেয়ার জন্য দুই হাজার টাকার একটি ট্রিপ পেয়েছেন ট্রাক চালক শফিকুল ইসলাম (শফিক মিয়া)। তাই গাড়ির তেল (পেট্রোল) নেয়ার জন্য খুশি মনে গেলেন পেট্রোলের দোকানে। সেখানে গাড়ি স্ট্যান্ড করেই স্টিয়ারিংয়ের সিটেই ঝুলে পড়লেন। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর পৌরশহরের ইকড়ছই আবাসিক এলাকায়। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাত ১১ টায় জানাজার নামাজ শেষে তাকে জগন্নাথপুরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর বাজারের নিকটবর্তী শহরের ইকড়ছই আবাসিক এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন শফিকুল ইসলাম (৪০)। তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকার মৃত সুলতান হোসেনের ছেলে। মা, স্ত্রী, এক বোন এবং দেড় বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাঁর সংসার। অনেক দিন ধরেই শফিক মিয়া জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের ট্রাকের চালক হিসেবে কাজ করছিলেন। বিভিন্ন বাজারে মালামাল ডেলিভারি দিয়ে থাকেন তিনি। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ভমভমী বাজারে মালামাল পৌছে দিতে দুই হাজার টাকার একটি ট্রিপ (ভাড়া) পান শফিক।
ট্রাকের মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিশ্বাসই হচ্ছে না, শফিক আর নেই। সন্ধ্যার দিকে হাসিখুশি মুখে আমাকে জানায়, দুই হাজার টাকার একটি ট্রিপ পেয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যে খবর পাই সে হঠাৎ করে অচেতন হয়ে পড়েছে। দ্রুত তাকে জগন্নাথপুরের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই চালকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি হার্টের রোগি। বেশ কিছুদিন ধরে ওষুধ খাওয়া হয়নি তারা। এজন্যে ধারণা করছি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।