গাড়ি কখন জানি উল্টে পড়ে দোকানে

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ফরহাদ টেইলার্সের মালিক ফরহাদ মিয়া যতক্ষণ নিজ দোকানে কাজ বা অবস্থান করেন ততক্ষণ তাঁকে বেশ আতঙ্কেই থাকতে হয়। কয়েক ফুট দূরত্বে থাকা তাঁর দোকানের সামনের সড়ক থেকে যে কোনো সময় যে কোনো যান উল্টে পড়তে পারে দোকানের ওপর। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাঁকে মনযোগ রাখতে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর। কারণ দোকানের সামনেই সড়কটিতে রয়েছে একটি গর্ত। সড়কের পাকা ও মাটি সরে গিয়ে এ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গর্তটির ওপর কিংবা তা পাশ কাটিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ফরহাদ মিয়ার দোকানের ওপর উল্টে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। মাস ছয়েক আগে একটি খালি ট্রাক তাঁর দোকানে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন ফরহাদ মিয়া প্রাণভয়ে দৌড়ে দোকান থেকে বের হয়েছিলেন। ওইদিন ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার দোকানের উত্তর পাশে খালি     জায়গায় উল্টে পড়ায় দোকানটি ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যায়।
দীর্ঘ দিন ধরে ধর্মপাশা উপজেলা খাদ্যগুদামের পশ্চিম পাশ থেকে হাসপাতাল সড়কের ত্রিমুখী মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ মিটার সড়ক সংস্কার না করায় ফরহাদ মিয়ার মতো অনেক দোকানিকেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এছাড়াও সর্বস্তরের জনসাধারণকে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায়ই যানবাহন উল্টে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটছে।
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাজিদুল হক সাজু বলেন, ‘উপজেলা সদরের অত্যন্তÍ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। এ সড়ক দিয়ে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলে যানবাহনের ঝাঁকিতে রোগীকে অনেক কষ্ট পেতে হয়।’
ধর্মপাশা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহম্মদ বলেন, ‘সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এখানকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’   
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, ‘এ সড়কটি সংস্কারের জন্য চলতি অর্থ বছরে উন্নয়ন কর্মসূচি’র (এডিপি) আওতায় পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা রাখি খুব শিগগিরই এ সংস্কার কাজ শুরু হবে।’