গুদামে ধান দিতে তৎপর মধ্যসত্ত্বভোগী চক্র

জাউয়া প্রতিনিধি
বুধবার থেকে ছাতক খাদ্য গুদামে শুরু হয়েছে সরকারের ধান ক্রয় কর্মসূচী। এতে মুনাফা লাভের আশায় তৎপর হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির ফরিয়া, মিল মালিক ও মধ্যসত্ত্বভোগী চক্র। খাদ্য গুদাম অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এ চক্রের রয়েছে নিয়মিত যোগাযোগ। সরকারের ধান ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী খাদ্য গুদাম কতর্ৃৃপক্ষ এ ধান ক্রয় করবে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে এবং একজন কৃষক বিক্রয় করতে পারবে ১টন ধান।
কিন্তু দোলারবাজার ইউনিয়নের বাবগোপী গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ, খাগঘাটা গ্রামের ছাদিকুুর রহমান খান, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সেনপুর গ্রামের কৃষক হাবিব, সিংচাপইর ই্উনিয়নের সদুখালি গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন, ভাতগাঁও ইউনিয়নের কেওয়ালিপাড়া গ্রামের কৃষক লিলু মিয়া, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান জানান, কবে থেকে গুদামে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে, কবে শেষ হবে এবং কি কি শর্ত স্বাপেক্ষে একজন কৃষক ধান গুদামে বিক্রয় করতে পারবে কিছুই তারা জানেন না। মাঠ পর্যায়ে প্রতি মণ ধানের মূল্য থেকে সরকার নির্ধারিত ধানের মূল্য ৩-৪শ টাকা বেশী হওয়ার দরুণ মধ্যসত্ত্ব সুবিধা ভোগী চক্র কি করে কৃষকদের পাশ কাটিয়ে গুদামে ধান বিক্রয় করা যায় সে চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আর তাদের এ কাজে সহায়তা করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী।
উপজেলা খাদ্য গুদাম অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ছাতক খাদ্য গুদামের ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪শ’ টন। ইতিমধ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়ন হতে ৩৩ টন, ছাতক সদর ইউনিয়ন হতে ৩০ টন, উত্তর খুরমা ইউনিয়ন হতে সাড়ে ২৮ টন, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন হতে সাড়ে ২৩ টন, সিংচাপইর ইউনিয়ন হতে ৩১ টন, চরমহল্লা ইউনিয়ন হতে সাড়ে ৩৩ টন, ভাতগাও ইউনিয়ন হতে ৩৪ টন, নোয়ারাই ইউনিয়ন হতে ৪০ টন, ইসলামপুর ইউনিয়ন হতে ২৮ টন, দোলারবাজার ইউনিয়ন হতে ২৯ টন, কালারুকা ইউনিয়ন হতে ২৮ টন, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন হতে সাড়ে ২৪ টন, ছৈলা-আফজালালাবাদ ইউনিয়ন হতে ৩২ টন এবং ছাতক পৌরসভা হতে ১১টন ধান ক্রয় করা হবে।
ছাতক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন বলেন, গতকাল থেকে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে এবং কৃষক ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে ধান ক্রয় করা হবে না।