গুরমা বর্ধিতাংশ হাওর উপ-প্রকল্পের ৩৬ নং প্রকল্পটি অরক্ষিত

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমার ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি প্রকল্প সভাপতি। প্রকল্প এলাকাটি তাহিরপুর উপজেলার পশ্চিম শেষ সীমান্তে ও টাঙ্গুয়া হাওরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে প্রকল্প কাজে নিয়োজিত তদারকি কর্মকর্তারা ওখানে আসা যাওয়া করেন না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান ছোটন। জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের শেষ সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারী। সরেজমিন ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, গুরমা বর্ধিতাংশ হাওর উপ-প্রকল্পের ৩৬ নং প্রকল্পের ২২লক্ষ নয় হাজার দুইশ চুরানব্বই টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকি ও হুমকির মধ্যে রয়েছে। বাঁধের উভয়পাশেই রয়েছে হানিয়া ও কলমা জলমহাল। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিমাপ মতো কাজ হয়নি। জিও টেক্সটাইল ও বস্তা স্থাপন করা হয়নি। প্রকল্প ক্লোজার স্থানে বস্তা ও জিওটেক্সটাইল ছাড়াই বাঁশ প্যালাসাইটিং করা হয়েছে। নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেলে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল পানির নীচে তলিয়ে যাবে। এ প্রকল্প কাজের সভাপতির দায়িত্ব পান শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের প্রভাত চন্দ্র সরকার। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান লামাগাঁও গ্রামের মো. আনোয়ার পারভেজ। প্রকল্প কাজের অপর সদস্যরা হলেন,মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের বেণু ভূষণ তালুকদার, লামাগাঁও গ্রামের মো. হোসাইন আহমদ ও মো. গুলেনূর।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য আবুল হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর বলেন, আমরাও গিয়েছিলাম গুরমা বর্ধিতাংশ প্রকল্পটি পরিদর্শনে। কাজটির গুণগতমান খুবই খারাপ। তদারকি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণেই এ সমস্যাটুকু হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় তাহিরপুর উপজেলার ৯টি গ্রাম ও ধর্মপাশা উপজেলার ৪টি গ্রাম মিলে মোট ১৩টি গ্রামের ফসলি জমি রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, গুরমা বর্ধিতাংশ হাওর উপ-প্রকল্পের ভিতরে হানিয়া ও কলমা হাওর মিলে মোট তিন হাজার হেক্টর জমি রয়েছে।
হাওরপাড়ের বাসিন্দা কাউয়ানি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি ও কৃষক আবুল হোসেন বলেন, গুরমা বর্ধিতাংশ হাওর উপ-প্রকল্পের ৩৬ নং প্রকল্পের কাজটি একবারেই দুর্বল। বাঁধে মাটি ফেলার পর কোন ধরনের দুর্মুজ করা হয়নি।
কাজের প্রকল্প সভাপতি প্রভাত চন্দ্র সরকার বলেন, তিনি স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করেছেন। প্রকল্প এলাকাতে মাটি ছিল না নৌকা দিয়ে দূর থেকে প্রকল্প স্থানে মাটি এনেছেন এজন্য বাঁধ নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ৫/৬ দিনের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী এমরান হোসেন বলেন, তিনি প্রকল্প সভাপতিতে তাগিদ করেছেন দ্রুত কাজটি শেষ করার জন্য।