গৃহবধূকে চাবুক ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে পাষণ্ড স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার
বিয়ের ৬ মাসের মাথায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে তারের চাবুক ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে পাষ- স্বামী। শুক্রবার সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালীতে এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকাল ১০ টায় আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন মেয়ের বাবা।
জানা যায়, গৌরারং ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের ১৯ বছরের ওই মেয়ে গেল বছরের জুলাই মাসে নিজের পছন্দে বিয়ে করেন পৌর শহরের বাসিন্দা সৈয়দ মিয়ার ছেলে মো. জসিম উদ্দিনকে (২২)। বিয়ের পর রিকশা চালক বাবা মেনে নেন এই সম্পর্ক। সম্প্রতি জসিম মোটা অংকের টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকে। রিকশা চালক বাবা যৌতুকের টাকা দিতে পারবেন না বলে জানান। এরপর থেকেই টাকা আদায় করতে গৃহবধূকে প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে স্বামী জসিম।
মেয়ের বাবা বলেন, বিয়ের পর ফার্নিচারসহ মোটর সাইকেল যৌতুক চায় জসিম। আমি রিকশা চালাই, এসব কিভাবে দেবো। দেড় মাস আগে জসিম ফোন করে বলে, ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। এসময় জসিম জানায়, কারেন্টের তার দিয়ে সে চাবুক বানিয়েছে। টাকা না দিলে প্রতিদিন পিটাবে।
নির্যাতিতা গৃহবধু বলেন, প্রতিদিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমাকে মারতো টাকার জন্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় চাবুক ও বাঁশ দিয়ে মারতে শুরু করে। আমার শ^শুর শাশুরি কিছু বলেন না। ছেলেকে আরো মারার জন্য বলেন। রাতেই আমি অসুস্থ হয়ে যাই। সকালে আবারো মারা শুরু করে। এরপর বাবা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি শহিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি নির্যাতিতার বাবা এসে থানায় জানিয়েছেন। আমরা তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।