গৃহহীনে পেল ঘর

বিন্দু তালুকদার
জামালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ এর আওতায় হতদরিদ্র ৬৩টি পরিবার নতুন টিনের ঘর পেয়েছে। যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নাই এমন ৬৩ পরিবারকে ওই প্রকল্পের আওতায় এসব ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকা।
নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে বুধবার বিকালে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ উপকারভোগীদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তোলে দেন। জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্রদের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তরের সঙ্গে বস্ত্রও তোলে দেয়া হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরানের সভাপতিত্বে ও সংস্কৃতিকর্মী জামিল আহমদে জুয়েলের সঞ্চালনায় নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী তালুকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন ভুইয়া, ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান রজব আলী, জামালগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ, বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার, ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল আহমদ, জেলা কৃষক লীগের সদস্যসচিব বিন্দু তালুকদার, জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি অঞ্জন পুরকায়স্থ, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ সরকার, ফেনারবাঁক ইউপি সচিব অজিত কুমার রায়, জামালগঞ্জ উত্তর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ ও অন্যরা এর আগে সদর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে রেনু বেগমের বাড়িতে গিয়ে ফিতা কেটে ওই ঘরে প্রবেশ করেন। পুরো বাড়িটি রঙিন বেলুন অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে সাজানো ছিল।
দিনমজুর সবুজ মিয়ার স্ত্রী রেনু বেগম বলেন,‘ ১৬ বছর আগে বিয়া অইছে। আমার তিনটা পুলা-পুরি, জামাই কানে হুনে না। বড় পুলাড়াও প্রতিবন্ধী। নিজের খেত-খামার নাই। আগে তো কোনো ঘর আছিল না। এই ঘর পাইয়া আমরা খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রী নতুন ঘর দিছইন, তাইনের লাগি দোয়া করমু। ’
সদর ইউপির ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক নূর বলেন,‘ প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পটি কতটুকু উপকারী যারা মাথা গোঁজার মানসম্পন্ন একটি ঘর পেয়েছেন তারাই জানেন।’
শাহপুর গ্রামে বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক নুরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রকল্প চলমান থাকলে দেশের সকল মানুষেরা পর্যায়ক্রমে মাথা গোঁজার ঠাই পাবেন। গ্রামের হতদরিদ্রকে সরকারি খরচে নতুন ঘর তৈরি করে দেয়ায় আমরাও খুশি।’
একইভাবে নতুন ঘর পেয়ে খুশি উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামের বিধবা কাজলী রানী দাস। তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, ভাঙা ঘরে থাকতাম। মেঘ আইলেই ঘর পানি পরত। এখন প্রধানমন্ত্রী নতুন টিনের ঘর বানাইয়া দিছঅইন।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯০টি পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৬৩টি পরিবারকে বুধবার নতুন ঘরের চাবি দেওয়া হয়েছে। বাকি ঘরগুলো তৈরির কাজ চলছে। ঘর প্রস্তুত হলে তাদেরও চাবি দিয়ে দেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ প্রকল্পের মধ্যেই আশ্রয়ন প্রকল্পটি একটি অন্যতম প্রকল্প। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনরা বসতঘর পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল গৃহহীনদের বসতঘর নির্মাণ করে দেয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, পাকা খুঁটির দিয়ে ০.৩৬ এমএম টিনের বসত তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘর ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০ ফুট প্রস্ত ও সামনে ৫ ফুট বারান্দা ও একটি লেট্রিন রয়েছে।