গোবিন্দগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
ট্রাফিক পুলিশ রাস্তার ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখবেন ও যানবাহন চলাচলে ভুমিকা পালন করবেন এটাই নিয়ম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই জেলার প্রবেশদ্বার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল।
সম্প্রতি সচিত্র অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। একস্কুল শিক্ষকের ফেইসবুক পোস্টে তির্যক মন্তব্য করেছেন অনেকেই। অনেকেই পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ছাতক-দেয়ারাবাজার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার দুলন মিয়া’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন,‘ গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের  
 দায়িত্ব নিয়ে একটা অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই পয়েন্টের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে যতুটুকু করার দরকার আমরা তা করব।’  
ছাতেকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রেজ্জাদ আহমেদ শুক্রবার বিকাল ৪ টা ৪৪ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জের যানজট নিয়ে নিজের ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘যখন গোবিন্দগঞ্জ মেইন পয়েন্টে যানজটের কারণে গাড়ীগুলো দাঁড়িয়ে আছে, রোগীর গাড়ীসহ অনেক সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, ঠিক এই মুহূর্তে টিএসআই হেলাল সাহেবের নেতৃত্বে ট্রাফিক পুলিশরা সাদা পুলের মুখে কিসের আশায় বসে বসে কার অপেক্ষা করছেন ? কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন।’
সহকারি শিক্ষক রেজ্জাদ আহমেদর এই ফেইসবুক পোস্টটি আরও ১১ জন শেয়ার করেছেন। গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান বকুলের ফেইসবুকে ট্যাগ করা হয়েছে এ পোস্টটি।
অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে শনিবার বিকালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণেই জেলার প্রবেশদ্বারে সব সময় যানজট লেগে থাকে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষজন ভোগান্তির শিকার হন। সাধারণ মানুষজন অতীষ্ট হয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নিয়েছেন। এসব বিষয়ে পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ’
মন্তব্য করে মো. আহাদ আলী নামের একজন লিখেছেন, একদম ঠিক কথা বলেছেন।’ ইমন আহমেদ লিখেছেন,‘তারাও টাকা লউয়াত।’
জুনেদ আহমদ নামের একজন লিখেছেন, ‘লাভ হবে কি না বিপদ আসবে।’ এই মন্তব্যের জবাবে শিক্ষক রেজ্জাদ আহমদ লিখেছেন,‘বিপদ কেন ভাই আমি কি বাংলাদেশের নাগরিক না। আমার কথা বলার অধিকার আছে।’
আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, ‘ঘুষ খাওয়ার জন্য বসে আছেন।’ মো. জাকারিয়া লিখেছেন,‘ টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য।’
জয়নাল আবেদীন নামের একজন লিখেছেন,‘যানজটের অন্যতম কারণ।’
আকাশের মেঘ নামের এক আইডি থেকে লিখা হয়েছে,‘ পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করেন। উনি এসব বিষয়ে আন্তরিক আছেন।’
মাহবুব রশিদ লিখেছেন,‘না, গোবিন্দগঞ্জের হকল ট্রাফিক পুলিশ কুদরত উল্লাহ মসজিদের ইমাম, খতিব, পেশ ইমাম, ফজরের আজান হবার আগে রাস্তায় আসে টেরাকের কাছ থেকে মাল নিতে।’
মো. সাদিকুর রহমান লিখেছেন,‘ আমার সামনে সাদা মোটরসাইকেলের ট্রাফিক একটি ট্রাককে দৌড়ে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে চাঁদা নিল। আর ড্রাইভারকে গালি দিল, পেছনে যে জ্যাম লেগে গেছে তার খেয়ালও নেই। যেন পাওনা টাকার জন্য ড্রাইভারকে গালাগালি করছে। আইনরে ও আইন তুমি কোথায় কবে আমাদের মাঝে তুমি আসবে ?
জমসিদ আলী লিখেছেন,‘আমাদের গোবিন্দগঞ্জের যানজটের মুল কারণ ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি।’