গোবিন্দগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর দফায়-দফায় সংঘর্ষে ব্যবসায়ী, পথচারীসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াকুব আলী নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সাদা ব্রীজ এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জের সাদা বীজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীরা সাদা ব্রীজ এলাকায় কয়েকটি সিএনজি-ফোরষ্ট্রোক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল ব্যবহার করা হয়। উভয় পক্ষ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৩০ রাউন্ড টিআরসেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পুলিশ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনাস্থলে পৌছে গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও আশপাশ এলাকায় রাত ৮ থেকে পরদিন সকাল ৮ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে রেলওয়ের লালপুল এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় শিবনগর গ্রামের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র ফয়সল আহমদ। গ্রামের লোকজনকে গালিগালাজ করতে বাধা দেয় শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র সাজু মিয়া ও স্থানীয় দোকানী ফরিদ মিয়া। এসময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকেলে সিএনজি যোগে যাওয়ার পথে সাদা ব্রীজ এলাকায় গাড়ীর গতিরোধ করে গাড়ী থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে ফয়সল ও তার সহযোগিরা। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় শিবনগর ও দিঘলী গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দু’ ঘন্টা ব্যাপী দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হলে গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আশপাশের সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া হয়। পথচারীরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে থানা-ও দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা, জায়েদ, নাসির , আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ
অন্যান্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রাতে গুরুতর আহত শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর পুত্র ইয়াকুব আলী(৩০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। ছাতক থানার ওসি(তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি ও টিআরসেল ছোঁড়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুন নবী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষে অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। শোনা যাচ্ছে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।