গোলাপী বলে গোলাপী ক্রিকেট

স্বপন কুমার দেব
আছি কানাডার টরেন্টোতে। লেখার কথা টরোন্টো নিয়ে কিন্তু লিখছি ক্রিকেট নিয়ে। তবে টরেন্টো বিষয়ে কিছু লেখা খাতাবন্দী আছে। ক্রিকেট আমার অন্যতম পছন্দ ও ভালবাসা। কলকাতায় শুরু হয়েছে প্রথমবারের মতো গোলাপী রঙের বল দিয়ে প্রথম দিবারাত্রি টেস্ট খেলা। কৃতিত্বের ভাগিদার স্বনামধন্য সৌরভ গাঙ্গুলী তার সবকিছুই রঙিন। ধন্য মহারাজা। সৌরভের পূর্বপুরুষ ছিলেন তদানিন্তন পূর্ববাংলার বাসিন্দা। দুই বাংলা তিনি জনপ্রিয়। ঢাকা তৈরি একটি সিনেমার নাম গোলাপী এখন ট্রেনে। যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল। গোলাপী রঙ অনেকের কাছে পছন্দের নয়। পুরুষের চেয়ে মহিলাদের বেশি আকর্ষণ গোলাপী রংয়ের প্রতি। খেলা উপলক্ষে কলকাতা এখন গোলাপী রঙে সজ্জিত। এ রংয়ের সন্দেশও সেখানকার বাজারে এসে গেছে। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের চাঁদের হাট বসেছে কলকাতায়। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে খেলার উদ্বোধন করেছেন। মমতা বন্দোপধ্যায় তো আছেনই। আয়োজনে ঘাটতি নেই। তবে গোলাপ ফুল যেন কোথাও দেখ গেল না। ভারতবর্ষে গোলাপী রঙের এমন জমকালো ব্যবহার নতুন নয়। জয়পুর শহরের পুরনো অংশকে পিংক সিটি অব ইন্ডিয়া বলা হয়। তখনকার মহারাজা গোলাপী রঙ দিয়ে তা সজ্জিত করেন। যা এখনও বহাল আছে। এবার হল কলকাতা। অবশ্যই স্মরণীয় থাকবে। দিবারাত্রি টেস্ট ক্রিকেটে কেন গোলাপী রঙের বল? মূলত দিনরাতের আলোর সাথে সামঞ্জস্য বিধান। সাদা ও লাল রঙ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে তাই গোলাপী। খেলোয়াড়দের চোখে যাতে ধন্দের সৃষ্টি না হয় অর্থাৎ বল ঠিকমত দেখা যায় সেজন্যই গোলাপী রঙের প্রবর্তন। কানাডায় সবকিছুই গবেষণাভিত্তিক। গোলাপী বলের জন্য ঠিকমত গবেষণা হয়ে থাকলে ফলাফল অবশ্যই ভাল হবে বলা যায়। গোলাপী রঙের যাত্র শুভ হোক।
২২ নভেম্বর ২০১৯
লেখক: সিনিয়র আইনজীবী।