গৌরারং ইউপি দুই ভাগে বিভক্তের দাবি

আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বৃহৎ গৌরারং ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার দাবি ওঠেছে। ইতিপূর্বে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। গৌরারং ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার ভোটার রয়েছে। ৫৪টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়ন। জেলার বৃহৎ ইউনিয়নগুলো বিভক্ত করা হলেও এখনও এই ইউনিয়ন অবিভক্ত রয়েছে। এই কারণে ইউনিয়নের যথাযথ উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রতিটি গ্রামের ও মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে গৌরারং ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার দাবি ইউনিয়নবাসীর।
ইউনিয়নের একাধিক নাগরিক জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকে উন্নয়নের স্বার্থে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিভক্ত করা হয়েছে। কিন্তু গৌরারং ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো লাভ হয় নি। অতীতের কোনো চেয়ারম্যান ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগ নেন নি। ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি ইতোমধ্যে ইউনিয়ন বিভক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কার্লভাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে না। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনও নির্মাণ হয় নি। বিশাল এলাকা থাকায় দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই ইউনিয়নের উন্নয়ন তুলনামূলক কম।
ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের আর্শ্বাদ আলী বলেন, বিভক্তি না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগে ভোগান্তি বেড়েছে আমাদের। সেবা নিতে আমাদের যেতে হয় অনেক দূরের ইউনিয়ন পরিষদে। কমপ্লেক্স না থাকায় আমাদের বসারও জায়গা নেই। রাস্তা-ঘাটেরও উন্নয়ন নেই। আমাদের জীবন জীবিকারও উন্নয়ন নেই। উন্নয়নের স্বার্থে ইউনিয়ন দুইভাগে বিভক্ত হওয়া প্রয়োজন।
নলুয়ারপাড়ের বাসিন্দা আছমা আক্তার বললেন, ইউনিয়নের এক সীমানা থেকে অন্য সীমানায় হেঁটে যেতে সারা দিন লাগে। ইউনিয়ন বিভক্ত হলে আমরা সেবা পাবো বেশি এবং কষ্ট হবে কম।
জাতীয় পার্টীর নেতা মো. শওকত আলী বলেন, গৌরারং ইউনিয়ন বিশাল থাকায় ভাল কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নেই, রাস্তা-ঘাটেরও উন্নয়ন নেই। ইউনিয়ন দুই ভাগে বিভক্তির দাবি আমাদের।
আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহানুর আলম বলেন, গৌরারং ইউনিয়নে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটের যথাযথ উন্নয়ন নেই। এমনকি ইউনিয়ন কপ্লেক্স ভবন পর্যন্ত নির্মাণ হয় নি। মানুষ সেবা নিতে আসলে কয়েক কিলোমিটার দুর থেকে হেঁটে আসতে হয়। এতে মানুষের ভোগান্তি হয় মারাত্মক। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নসহ সেবা গ্রহিতাদের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে ইউনিয়ন দুই ভাগে বিভক্ত করার দাবি আমাদের।
গৌরারং ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকে এই ইউনিয়নকে দুই ভাগে ভাগ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। জেলা প্রশাসক বরাবরে ইউনিয়ন ভাগের জন্য আবেদন দিয়েছি। এই আবেদন উপজেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে একটি সভায় আলোচনাও হয়েছে। তবে বর্তমান চেয়ারম্যানের এই বিষয়ে আগ্রহ নেই।
গৌরারং ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়া বলেন, ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু টেন্ডার হয় নি। টেন্ডার হলে কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ইউনিয়ন বিভক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই, ইউনিয়ন বিভক্তি ভবিষ্যতে হতে পারে।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য হোসেন আলী বলেন, জেলার বৃহৎ ইউনিয়ন গৌরারং, এই ইউনিয়ন দুই ভাগে বিভক্ত না হওয়ায় যথাযথ উন্নয়ন হচ্ছে না। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন নেই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নেই। বেশি উন্নয়নের স্বার্থে ইউনিয়ন বিভক্ত হওয়া জরুরি প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার বলেন, গৌরারং ইউনিয়ন অনেক বড় এটা আমাদের জানা আছে। এই ইউনিয়নের বিভক্তির জন্য কেউ আবেদন করলে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় পড়লে আমরা বিভক্ত করার চেষ্টা করবো।
সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিজিএলজি) মো. জাকির হোসেন বলেন, গৌরারং ইউনিয়নকে বিভক্ত করার কোনো আবেদন আমাদের কাছে আসে নি। এলাকার মানুষ যদি বিভক্ত করতে আগ্রহী হয়ে আমাদের কাছে আবেদন করেন এবং তাদের দাবি যদি সরকারের নির্দিষ্ট নীতিমালায় পড়ে, তাহলে আমরা আইনী প্রক্রিয়ায় বিভক্ত করা জন্য চেষ্টা করবো।