গৌরারং-এ ৭ প্রকল্পে নীতিমালা লঙ্ঘন

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের হাওরে ৭টি প্রকল্পের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে নীতিমালা লঙ্ঘন করে পিআইসি গঠন ও নির্দিষ্ট জায়গায় বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া গত ১১ মার্চ রবিবার তিন দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য উপ সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকীকে চিঠি দেন।
তবে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ওই চিঠির কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেননি উপ সহকারি প্রকৌশলী মো.আশরাফুল সিদ্দিকী।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের স্মারক নং-এফ-২/৯৪৯, তারিখ-১১/০৩/২-১৮ ইং-এ সদর উপজেলার কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব উপ সহকারি প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার চিঠিতে যেসব প্রকল্পগুলো উল্লেখ করা হয়, সেগুলো হলো- খরচার হাওরের পিআইসি নং-৩৯, পিআইসি সভাপতি আয়না মিয়া, প্রকল্প বরাদ্দ ১৯,৭৩,০০০ টাকা। জোয়াল ভাঙা হাওরের পিআইসি নং ৪০, পিআইসি সভাপতি গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রবিউল আওয়াল, প্রকল্প বরাদ্দ টাকা ১৯,৮২,০৮০ টাকা। খরচার হাওরের পিআইসি নং ৪২, পিআইসি সভাপতি মো. গুল আহমদ, প্রকল্প বরাদ্দ ১০,৭০,১২২ টাকা। জোয়াল ভাঙা হাওরের পিআইসি নং ৪৩, পিআইসি সভাপতি আবুল বরকত, প্রকল্প বরাদ্দ টাকা ১৪,৮৫,৬৪৯ টাকা। পিআইসি নং-৪৬, পিআইসি সভাপতি শওকত আলী , প্রকল্প বরাদ্দ ২২,৫৬,০০০ টাকা। পিআইসি নং ৪৭, পিআইসি সভাপতি সাহাব উদ্দিন, প্রকল্প বরাদ্দ ১৫,৪৫,৩০০ টাকা। ৪৮ নং পিআইসি সভাপতি আলম মিয়া, প্রকল্প বরাদ্দ টাকা ২০,৪৫ ,৩০০ টাকা। এসব পিআইসি নীতিমালা বহির্ভূতভাবে গঠন করা হয়েছে এবং ওই পিআইসিগুলোর বাঁধের কাজ নির্দিষ্ট জায়গায় শুরু হয় নি বলে নির্বাহী প্রকৌশলী ওই পত্রে ব্যাখ্যা তলব করেছেন। শুধু এসব পিআইসিই নয় এর বাইরেও একাধিক প্রকল্পের কাজে অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খরচার হাওরের ৩৮ নং পিআইসির সদস্য কামারটুক গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আব্দুর রউফ বলেন,‘ প্রায় তিন-সাড়ে তিন লাখ টাকার কাজ হয়েছে আমাদের এই প্রকল্পে। আর কোন টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। আমি পিআইসির একজন সদস্য, অথচ আমাদের কোন কিছুই জানানো হয়নি। পিআইসির সভাপতি আইয়ুব আলী মেম্বার সাব নিজের মনে যা চায় তিনি তাই করছেন। ’
পিআইসির সভাপতি ইউপি ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আইয়ুব আলী বলেন,‘ খরচা ও জোয়াল ভাঙা হাওরের ৫টি পয়েন্টে মিলিয়ে আমার প্রকল্প। প্রকল্পের বরাদ্দের চেয়ে আমার বেশী টাকা খরচ হয়েছে। যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি পিআইসির সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম সভাপতি হয়ে যান আমার আপত্তি নেই। সভাপতি হতে না পেরে এসব কথা বলছেন। ’
খরচার হাওরের ৪২ নং পিআইসির সদস্য নিধিরচর গ্রামের কৃষক মছদ্দর আলী বলেন,‘ গুল আহমদ পিআইসির সভাপতি হলেও তাঁর কোন জমি নেই এই হাওরে। তার জমি জোয়াল ভাঙা হাওরে। কিভাবে কি কাজ করছেন আমি জানি না। কত টাকার কাজ হয়েছে তাও জানানো হয়নি। তবে উতাউইত্তা কম্পার্মেন্টাল বাঁধে কোন মাটি দেয়া হয়নি। কোথায় মাটি দিয়েছেন তিনিই জানেন।’
৪২ নং পিআইসির সভাপতি গুল আহমদ বলেন,‘ আমার প্রকল্পের কাজ শেষ, বিল পেয়েছি ৬ লাখ টাকার বেশী। তবে আমার খরচ হয়েছে ১০-১২ লাখ টাকা। প্রায় সব কাজই শেষ, কিছু জায়গায় ঘাস লাগানোর বাকী রয়েছে। খরচার হাওরে আমার জমি আছে, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি সঠিক বলেননি।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,‘ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ৭টি পিআইসি নীতিমালা অনুযায়ী গঠন হয়নি ও সঠিক স্থানে বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপ সহকারি প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ব্যাখা পাওয়া যায়নি। ব্যাখা পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ ব্যাপারে পাউবোর খরচা ও জোয়াল ভাঙা হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন,‘ ৭টি প্রকল্পের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের একটি চিঠি পেয়েছি। এখনও ৩ দিন হয়নি, আমি ব্যাখ্যা প্রদান করব। এলাকার লোকজন বিরোধিতার কারণে একে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। অহেতুক আমাদেরও হয়রানী করা হচ্ছে। যেস্থানে সার্ভে করা হয়েছে, সেখানেই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কোন বাঁধ নির্মাণ কাজ বাকী নেই। ঘাস লাগানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। ’