গ্রাম্য সালিসিতে জগলুল

সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
সুনামগঞ্জ পৌরসভার জননন্দিত পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুলের জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড সবকিছুই শহরকেন্দ্রিক অথচ জগলুল গ্রাম্য সালিসিতে, আপোষ মিমাংসাতে সালিসি/বিচারকের ভূমিকায়ও ছিলেন অনন্য।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শাল্লা সদর জামে মসজিদের মাইকে জগলুল ভাইয়ের নামে শোক সংবাদের ঘোষণা আসে। নামটা শুনে অন্য সবার মতো আমিও কেমন যেন নির্বাক ও বাক্রুদ্ধ হয়ে যাই। কারণ গত উপ-নির্বাচনে ড. জয়া সেনের পক্ষে প্রচারনায় শাল্লার সাধারণ মানুষকে   একান্ত আপন করে নেওয়া তারপর শাল্লা সদরের গ্রাম ডুমরার দীর্ঘদিনের বিরুদ্ধের আপোষ মিমাংসায় মুখ্য ভূমিকা পালনের কারণে সবার হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া।
শাল্লা উপজেলা সদরের গ্রাম ডুমরা। দীর্ঘদিন যাবত গ্রামের দুইটি পক্ষের মধ্যে ছিল দ্বন্দ্ব। এক পক্ষের নেতৃত্বে প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেশ চন্দ্র চৌধুরী, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে শাল্লা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস। গত ২০১৭ ইং সালে এই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি প্রায় নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল প্রায় ২০/২৫টির মতো। দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কেউই বিরোধ মিমাংসায় এগিয়ে আসছিলেন না।
এমতাবস্থায় মধ্যস্থতার ভূমিকায় এগিয়ে আসলেন কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, যথাক্রমে রমেন্দ্র নারায়ন দাস (সদ্য প্রয়াত), মনোজ কান্তি সরকার, স্বদেশ তালুকদার, সুদীপ্ত দাস, সূর্য্যলাল দাস, প্রভাষক বিপ্লব হোম নান্নু ও শিক্ষক সুব্রত কুমার দাস প্রমুখ। উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগের এক পর্যায়ে এক পক্ষ রাজি হয় তো আরেক পক্ষ সময় চায়। এই ভাবে চলছিল সময় ক্ষেপণ। আর এরই ফাঁকে ফাঁকে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই চলছিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এরই মাঝে শুরু হয় দিরাই শাল্লার উপ-নির্বাচনের নির্বাচনী ডামাডোল। আওয়ামী প্রার্থী ড. জয়া সেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় আসেন সুনামগঞ্জের পৌর মেয়র জগলুল ভাই। উঠুন বৈঠকে ডুমরায় এসে গ্রামের পরিস্থিতি দেখে নির্বাচনের পরে এসে বিরোধ মিমাংসা করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
তার ফলশ্রুতিতে গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে উপরোক্ত শিক্ষকগণ সহ আমিও গেলাম উনার অফিস কক্ষে আপোষের বিষয়ে সময় নির্ধারণের জন্য। উনার আতিথেয়তা ও কথা-বার্তায় সত্যিই আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আলাপের সময় উনার গলার অপারেশনের কথা এবং রমজান মাসের কথা বললেন। আরও বললেন ডাক্তার বেশি কথা বলা নিষেধ করেছেন। তারপরও শাল্লা যাব এবং পরে মোবাইলে তারিখ জানিয়ে দেবেন বলে আমাদের আস্বস্ত করেন। অবশেষে ২০১৭ সালের জুলাই মাসের ১৫ তারিখ শাল্লা গণমিলনায়তনে উভয় পক্ষকে নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি এত সুন্দর ভাবে মিমাংসা করে দিলেন, আমার মনে হয়েছে আমাদের এলাকার অন্যান্য যারা সালিসদার ছিলেন তারাও যেন গ্রাম্য বিচার ব্যবস্থায় উনার কাছে ম্লান।
বিচার শেষে বিদায় বেলায় আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখি করি ও আমার বড় বোন জামাই সুনামগঞ্জ সদরের তাপস বাবু বলতেই উনি বুকে জড়িয়ে নিলেন আর বললেন আপনি তো আমাদের বড় কুটুম, সুনামগঞ্জ আসলে আমার অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত রইল।
প্রিয় নেতা, প্রিয় জগলুল ভাই, প্রিয় সমাজ সংস্কারক আপনার অফিসে চা খাওয়াটা বাকিতে রেখেই না ফেরার দেশে আমাদেরকে ফাঁকি দিয়ে অসময়ে এভাবে চলে যাওয়াটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা। আল্লাহ্ আপনাকে বেহেস্ত নসিব করুন।



আরো খবর