গ্রাম ও শহরের পার্থক্য কমিয়ে আনাই প্রকৃত উন্নয়ন

গ্রাম ও শহরের পার্থক্য ঘুচানোর আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। গত রবিবার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে শহর ও গ্রামের পার্থক্য ঘুচানোর কাজে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে এই পার্থক্য আরও কমিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর কথার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে যুক্তি রয়েছে। এখন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় বিশ্বের যেকোন প্রান্তের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। আগে যে গ্রামীণ জনপদ থেকে শহরে এসে কাজ শেষে ওই দিন ফিরে যাওয়ার কোন উপায় ছিল না, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে এখন আর কাউকে বিনা প্রয়োজনে শহরে রাত কাটাতে হয় না। কাজ শেষে সকলেই বাড়িতে ফিরতে পারছেন অনায়াসে। গ্রামে এখন বিদ্যুৎ আছে, ক্যাবল নেটওয়ার্কের টিভি চ্যানেল আছে, নাগালের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে যেকোন পণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে আনাচে-কানাচে। তাই এখন গ্রামীণ জনপদের মানুষকে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া শহরে না আসলেও চলে। এই যে গ্রামের মানুষের শহরে না আসার বাস্তবতা এটাই মূলত শহর ও গ্রামের পার্থক্য দূর হওয়ার মাপকাঠি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের যে গতি সেটি অব্যাহত থাকলে প্রতিমন্ত্রীর আকাক্সক্ষা মোতাবেক সামনে এই পার্থক্য সত্যিকার অর্থেই আরও কমে আসবে। সরকারের এই জায়গায় কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে।
এখন পুরো বিশ্বকে বৈশ্বিক গ্রাম অভিধায় ডাকা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি সারা বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধার ব্যবস্থা করে দিয়েছে আজ। বিভিন্ন খাতে ই-সেবার সম্প্রসারণ যেভাবে হচ্ছে সেখানে অদূর ভবিষ্যতে মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ প্রয়োজনই প্রাযুক্তিক উপায়ে মিটাতে সক্ষম হবে। ই-সেবার সম্প্রসারণের সাথে যখন যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো ও পরিসেবাগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে তখন বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোটিও বদলে যেতে বাধ্য। এখন আমরা যে বিশাল বিশাল অফিস আদালত দেখছি ভবিষ্যতে সেরকম অফিসের প্রয়োজন থাকবে না। বিশাল দালান, বহু মানুষ, অসংখ্য নথি ও খাতাপত্রের মাধ্যমে এখন যেসব সেবা দেয়া হচ্ছে সেটি চলে আসবে গুটি কয়েক ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের মধ্যে। মানুষ ঘরে বসেই সেবার চাহিদা পেশ করবেন এবং সেবাদাতাও অনুরূপ প্রাযুক্তিক পদ্ধতিতে ন্যূনতম সময়ে তা মিটিয়ে দিবেন। এমনও হতে পারে যে, এখানে সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে চোখ দেখাদেখিও না হতে পারে। আপাতত এরকমটি কষ্টকল্পনার মত মনে হলেও অতীত অভিজ্ঞতার সাথে মিলালে তা আর কল্পনা মনে হয় না।
শহর ও গ্রামের পার্থক্য ঘুচে গেলে বা হ্রাসপ্রাপ্ত হলে এখন মোকাবিলা করছি এমন বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আজ দেশের নানা শহর ও নগর যেভাবে জনভারাক্রান্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে, গ্রামের মানুষের শহরমুখী ঢল আটকে সেটি রোধ করা সম্ভব। শহরে যেসব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান তা গ্রামে সুলভ করা গেলে কেন মানুষ শহরে আসবে? সরকার মূলত ওই কাজটিই করতে চাচ্ছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা প্রভৃতি নাগরিক চাহিদাদি ক্রমান্বয়ে গ্রামে সম্প্রসারিত হচ্ছে। যেটি আগামীতে আরও বাড়বে। সরকারের ওইরকম পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সরকারের গৃহিত মহাপরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই শহর ও গ্রামের পার্থক্য ঘুচিয়ে দেয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এই আকাক্সক্ষা আধুনিক বিশ্বের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাঁর এমন মহৎ আকাক্সক্ষা জয়যুক্ত হোক।