ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুনামগঞ্জের ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (পাওয়ার গ্রীড স্টেশন)’এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে রাঙামাটি, মাতারবাড়ি, বিয়ানীবাজার, জলঢাকা, শিকলবাহা, বারৈয়ারহাট, বরিশাল ও রামগঞ্জ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সুনামগঞ্জ শহরতলির ওয়েজখালিতে (ইকবাল নগরের পাশে) পাওয়ার গ্রীড স্টেশনের কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। মে মাসের ৩ তারিখ থেকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়। সুনামগঞ্জ শহর এবং দিরাই-শাল্লার প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক এরপর বিদ্যুৎ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান।
সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হবার পর ১৩২ কিলোভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সম্ভব হচ্ছে। লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ সমস্যা কমেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণ নিরবিচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো হয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হবে। আমরা জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ’এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো।’
আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত দেশে পরিণত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর। দারিদ্রমুক্ত দেশে গড়তে সুনির্ধারিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে। সরকার এখন মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। ত্ইা এখন আর বিদ্যুতের জন্য মানুষকে ছোটাছুটি করতে হয়না ।’
দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এগিয়েছি। গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেলে মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমার গ্রাম হবে আমার শহর।’
‘গ্রামের মানুষের আর শহরে আসার প্রয়োজন হবে না। শহরের সব সুযোগ সুবিধা গ্রামে পৌঁছে যাবে।’
গণভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক মন্ত্রী এবং সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক এলাহী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ ইসলাম আল জ্যাকব বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নাসিরুল হামিদ বিপু এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যগণ।
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নাসিরুল হামিদ বিপু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড.আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, ২০,৮৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করায় দেশের ৯২ শতাংশের বেশি জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে ১শ’ নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুবাদে বাংলাদেশ এখন বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশ থেকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচারক মো. এমরান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আহমদ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম অখিল কুমার সাহা, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।