ঘাট বা জেটি বিহীন নদী বিআইডব্লিউটিএ ইজারা দেয়া কি করে?

জাদুকাটা নদী দিয়ে বালু-পাথর বহনকারী বিভিন্ন নৌযানে ইদানিং বিআইডব্লিউটিএ’র নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। রঙ্গারচর হতে আবুয়া নদীর মুখ পর্যন্ত এই চাাঁদাবাজি চলে বলে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। বিআইডব্লিটিএ থেকে ইজারা এনেছেন এমন কথা বলে ইজারাদারদের লোকজন বালু-পাথরবাহী নৌযানে প্রতি বর্গফুট বালু-পাথর থেকে ৫০ পয়সা হারে টুল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছে। এতে প্রতি নৌযানকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা দিতে অসম্মত হলে নৌযানের শ্রমিকদের নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে এই নৌরুটটি বালু-পাথর মালিক শ্রমিকরা এড়িয়ে চলতে চাইছেন। জাদুকাটা নদী থেকে বালু-পাথর বহন করতে হলে আবুয়া নদীটি ব্যবহার করতেই হয়। তাই এ স্থানটি যদি অনিরাপদ মনে করে ব্যবসায়ীরা পরিবহন বন্ধ করে দেন তাহলে জাদুকাটা নির্ভর বালু-পাথর ব্যবসার সাথে জড়িত প্রতিটি পক্ষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ থেকে ইজারা গ্রহণ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন কোন কিছুই অবগত নয়। এজন্য এই এলাকার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলা প্রশাসনও এ কারণে মাঝে-মধ্যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। বিআইডব্লিইটিএ’র কোন জেটি বা নির্ধারিত ঘাট আবুয়া নদীতে রয়েছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। যদি প্রতিষ্ঠানটির এরকম ঘাট বা জেটি থাকতো তাহলে তারা সেই ঘাট ব্যবহারকারীদের নিকট থেকে সরকারি নির্ধারিত হারে টুল আদায় এবং এ লক্ষে ঘাট ইজারা দিতে পারত। কিন্তু যেখানে কোন ঘাট বা জেটিই নেই সেখানে কিসের জন্য এই ইজারা তা আমাদের বোধগম্য নয়। ঘাটবিহীন কোন নদী বিআইডব্লিউটিএ ইজারা দিতে পারে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। এর পেছনে স্থানীয় চাঁদাবাজদের এক ধরনের বৈধতা পাওয়ার অভিসন্ধি কাজ করছে বলে আমাদের মনে হয়। বিআইডব্লিউটিএ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে কোন বেআইনি কাজের সাথে জড়িত হতে পারে না। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা প্রভাবিত হয়ে চাঁদাবাজদের সহযোগিতা করছে।
বিআইডব্লিউটিএর কোন ঘাট বা জেটি যদি নদীতে থাকেও, সেটি কেউ ব্যবহার করলে টুল দিবে। ব্যবহার না করলে টুল দেয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরা যতদূর জানি আবুয়া নদীতে কোন বালু-পাথরবাহী নৌযান নোঙর করে অবস্থান করে না। চাঁদাবাজরা চলন্ত নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। এবং চাঁদা আদায়ের প্রক্রিয়াটি জোর জবরদস্তিমূলক। কোন্ আইন বলে বিআইডব্লিউটিএ এই আবুয়া নদী ইজারা দিয়েছে এবং ইজারা দেয়ার নীতিমালা কি সেটি তাদের প্রকাশ করা উচিৎ। জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে অবাধে চলতে থাকা অবৈধ চাঁদাবাজির দায়-দায়িত্ব সরকারের ঘাড়েও এসে বর্তায়।
বালু, পাথর ও কয়লা সুনামগঞ্জের অর্থনীতির প্রাণ। এই ব্যবসায় জড়িত বহু মানুষ এর মাধ্যমে জীবন ও জীবিকা পরিচালনা করেন। এছাড়া নদীপথে নিরুপদ্রবে যাতে চলাচল করা যায় সেটি নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। এখন যখন একটি সংঘবদ্ধ শক্তি নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে তাদেরকে দমন করাও তাই প্রশাসনেরই দায়িত্ব বটে। আমরা আশা করব রঙ্গারচর থেকে আবুয়া নদী পর্যন্ত বিস্তৃত নদীপথে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে যে চাঁদাবাজি চলছে সেটি অনতিবিলম্বে বন্ধ করা হবে । একইসাথে বিআইডব্লিউটিএ’র যে সমস্ত কর্মকর্তা এই অবৈধ ইজারা প্রদান প্রক্রিয়ায় জড়িত তাদেরও চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থায় আনতে হবে।