চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণায় জমে উঠেছে। সোমবার রাত ১২টায় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই জমে উঠেছে। কালো টাকার খেলাও শুরু হয়েছে। শেষ মুহূর্তে বিজয়ের হাসি কে হাসবে তা দেখার পালা।
ভোটাররা জানান, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন চারজন। একজন প্রচারণা ও ভোটের মাঠে পিছিয়ে আছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আকমল হোসেন (নৌকা), বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা (আনারস), জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (খেজুর গাছ) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস চৌধুরী লিটন (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের নৌকা প্রতীকের সমর্থনে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের অনুসারী দলীয় নেতাকর্মীরা জোর তৎপরতা চালিয়ে বিজয় নিশ্চিতে মাঠে কাজ করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা আঞ্চলিকতার আওয়াজ তুলেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন বলয়ের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। গত বন্যায় তিনি মানুষের পাশে সক্রিয় থাকায় ভোটের মাঠে সুবিধা পাচ্ছেন।
অপরদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেন। তাঁর দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা অবশ্য প্রকাশ্যে তাঁর সঙ্গে মাঠে নেই।
জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভেকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী রয়েছেন।
নির্বাচনে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস চৌধুরী লিটন ঘোড়া প্রতীকে প্রচারনা চালাচ্ছেন। প্রচরণায় তিনি পিছিয়ে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আকমল হোসেন বলেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এবার নৌকার পক্ষে কাজ করছে। উন্নয়নের প্রতীক নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আমি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।
বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ভোটের মাঠে মানুষের সাড়া আমাকে আশাবাদী করছে। আমি নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করব।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক মুক্তাদীর আহমেদ বলেন, আমি উপজেলা পরিষদের প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দুই বছর পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম। দলমতের উর্ধ্বে উঠে মানুষ আনারস প্রতীকের পক্ষে সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করেগণজোয়ার তৈরি করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটের মাধ্যমে জনগণ আমাকে জয়ী করবে।
জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম জয়ের ব্যপারে আশাবাদী উল্লেখ করে বলেন এবার পরিবর্তনের পক্ষে মানুষ রায় দিবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরাম যুগ্ম আহ্বায়ক রুমানুল হক বলেন, এবার জয় পরাজয়ের হিসাব মিলানো কঠিন। নানা সমীকরনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। কোন কোন প্রার্থী কালো টাকার খেলায় মেতে উঠেছেন। ফলে নির্বাচনী ফলাফল কোনদিকে মোড় নেয় বলা কঠিন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, উপজেলার একটি ইউনিয়নে ও আটটি ইউনিয়নে ৮৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। মোট ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৩২৩ জন নারী ভোটার ৯৩ হাজার ৭১৬ জন। বুথ সংখ্যা ৫২৯টি ও অস্থায়ী ৭০ টি। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।