চলমান শুদ্ধি অভিযানকে অব্যাহত সমর্থন জুগিয়ে যেতে হবে

চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখার কথাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনি ইশতেহারে তাঁদের উদ্দেশ্য অর্জনের কৌশল হিসাবে দুর্নীতির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শনের অঙ্গীকার করেছিল। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। এখন যুবলীগ নেতাদের ক্যাসিনো ব্যবসা নির্মূলে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিবাজের ক্ষেত্রে কোন দল বিবেচনা করা হবে না। এবং তিনি নিজের দল দিয়েই এই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। সমাজ দেহে লোমকূপের মতো ঘন হয়ে গেঁড়ে বসা বহুবিস্তৃত দুর্নীতিকে একটি বিশেষ অভিযানে নির্মূল করে দেয়া সম্ভব হবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ না থাকলেও যেকোনো এক জায়গা থেকে এটি শুরু করতে হবে এই কথাও সত্য। নিজের দল থেকে এই অভিযান শুরু করার অর্থ হলো, বিষয়টির প্রতি কতটা দৃঢ়তা এটা বুঝানো। সরকারের দায়িত্বশীলদের কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে ক্ষমতার এই মেয়াদটি তাঁরা দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রধানত কাজ করবেন। মানুষ সরকারের এই অবস্থানটি ভালভাবে গ্রহণ করেছে। দুর্নীতির কারণে আমাদের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ কী পরিমাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সেটি বিশেষজ্ঞরা বারবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন। দুর্নীতিবিরোধী এই কর্মযজ্ঞটি মসৃণ হবে বলে মনে হয় না, হওয়ার কথাও নয়। দুর্নীতিবাজরা নানাভাবে শক্তিশালী। অবৈধ টাকা খরচ করে তারা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটকে মোকাবিলা করেই এগোতে হবে। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কোথায় গিয়ে ঠেকে, এই জালে কী পরিমাণ রাঘব-বোয়াল আটকা পড়ে, কতো অবৈধ অর্থ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে আনা সম্ভব হয়; তার সবকিছুর প্রতিই সাধারণ মানুষের তীক্ষè পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
বড় বড় দুর্নীতির সাথে ছোটখাট দুর্নীতির প্রতিও সমান নজর দিতে হবে। দুর্নীতি শুধু রাজধানীতে সংঘটিত হয় না। সারা দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে দুর্নীতি হচ্ছে না। শুধু রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করেন এমনও না। আমলাতন্ত্র, পুলিশ প্রশাসন, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম; সর্বত্রই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে সর্বাঙ্গেই ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা। কিন্তু ঔষধ তো দিতেই হবে। দুর্নীতির সর্বগ্রাসী আগ্রাসন থেকে প্রিয় মাতৃভূমি ও মানুষকে রক্ষা করতেই হবে। শেখ হাসিনা সেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মফস্বল অঞ্চলে সরকারি পরিকাঠামোর যেসব স্থানে দুর্নীতি হয়ে থাকে এবং যে দুর্নীতির কারণে জনসাধারণ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেইসব সেবাখাতগুলোর প্রতিও চলমান শুদ্ধি অভিযানকে বিস্তৃত করতে হবে। সাধারণ মানুষ এইসব ছোটখাট দুর্নীতি দ্বারাই নির্যাতিত হন বেশি।
সাধারণ জনতা সবসময় ভাল উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে এসেছে। এই সাধারণ মানুষ একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে আগ্রহী। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল একটি সমতা ও ন্যায্যতার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ নিয়ে। আমরা স্বাধীনতার সেই মহান আদর্শ থেকে বহু দূর সরে এসেছি। একজন শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের সেই মহান চেতনার ধারায় ফিরিয়ে আনতে আজ যে কঠিন কাজ শুরু করেছেন সেটিকে অব্যাহতভাবে সমর্থন জুগিয়ে তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনিও সজ্জন ও স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখার কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত রয়েছেন। আসুন সকলেই আমরা যে যার অবস্থান থেকে সরকারের এই শুদ্ধি অভিযানকে সমর্থন করি।