চলে গেলেন ভাষাসংগ্রামী ছদরুদ্দিন চৌধুরী

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট
চিরদিনের মতো চলে গেলেন ভাষাসংগ্রামী ডক্টর ছদরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী। বৃহত্তর সিলেটের প্রগতিশীল ধারার সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিটি ছিলেন অনেকটা বটবৃক্ষের মতো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছদরুদ্দিন আহমদ শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না…রাজিউন)। তিনি তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণাগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অনেকে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
ছদরুদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্য হয়। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে ১৯৩১ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিএসসি (সম্মান) শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ব্যবহারিক পদার্থবিজ্ঞান’ নামে একটি বইও রচনা করেছেন। এটি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এর বাইরে আত্মকথা (২০১০) নামে তাঁর একটি আত্মজৈবনিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর বড় মেয়ে নাসেহা চৌধুরীর স্বামী কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমদ। মেজো মেয়ে ডক্টর নাজিয়া চৌধুরী শাবিপ্রবির
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও তাঁর স্বামী সিলেটের প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠক মঈনুদ্দিন আহমদ জালাল। ছদরুদ্দিনের ছোট মেয়ে নাইমা চৌধুরী স্বপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন।
শনিবার রাতে ঢাকা থেকে ছদরুদ্দিন আহমদের লাশ সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকার বাসায় নিয়ে আসা হয়। তাঁকে শেষ বারের মতো দেখতে তাঁর গুণাগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীরা ভিড় জমান। আজ রবিবার সকাল ১০টায় শাবিপ্রবিতে, সাড়ে ১০টায় শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে এবং বাদ জোহর প্রয়াতের গ্রামের বাড়ি গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি বড় মোকাম মসজিদে তিন দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ফুলবাড়ি বড় মোকামে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হবে।