চাঁদা না দিলে শ্রমিকদের ওপর চলে নির্যাতন

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর মোকামের খাল এলাকায় নৌযানে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার চাঁদাবাজির শিকার ভুক্তভোগীরা জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর নিকট চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সিলেটের বালাগঞ্জ, শেরপুর, জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলায় বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথে কুশিয়ারা নদীর মোকামের খাল হয়ে যাতায়াত করতে হয়। মোকামের খাল এলাকাটি সিলেটের বালাগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর মিলিয়ে তিন উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত। সীমান্তবর্তী দিঘলবাঁক গ্রামের রবিউল মিয়ার নেতৃত্বে একদল চাঁদাবাজ নৌযান গুলো আটকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দিলে নৌ-শ্রমিকদের মারধর করে জোরপূর্বক নৌকা ডুবিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নৌকা থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
দিরাই উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের নৌ-শ্রমিক মোস্তাক মিয়া বলেন, কুশিয়ারা নদীর মোকামের খাল হয়ে প্রতিদিন শত শত নৌযান বালু, পাথর ও নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারে যাতায়াত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিন মাস ধরে মোকামের
খাল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র আমাদের নৌকা আটকিয়ে নৌকা প্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে।
আরেক নৌ-শ্রমিক ফাজিলপুর গ্রামের কামাল মিয়া জানান, চাঁদা না দিলে নৌকাগুলোর চলাচলে বাধা প্রদান ও শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করার পাশাপাশি নৌকা থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
দিঘলবাক গ্রামের জিতু মিয়া বলেন, প্রায় দিনই নৌ-শ্রমিকরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে আমাদেরকে জানাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত রবিউল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল দাস জানান, মোকামের খাল এলাকায় নৌচলাচলে বাধা প্রদানের বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান নৌ-চলাচলের কারণে নদীর পাড়ে তাদের বসতভিটা ভেঙে যাচ্ছে, তাই তারা বাড়িঘর রক্ষায় বাধা দিচ্ছেন। আমরা নৌ-চলাচলে বাধা না দিতে তাদেরকে বলেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) এর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত বলেন, কুশিয়ারা নদীর মোকামের খাল এলাকায় নৌযানে চাঁদাবাজির একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।