চালবাজরা বহাল তবিয়তে

বিশেষ প্রতিনিধি
দরিদ্র মানুষের জন্য দেওয়া স্বল্পমূল্যের চাল বেশি টাকা পাবার লোভে বিক্রি করে দিচ্ছেন সুনামগঞ্জের কিছু অসৎ ডিলার। এসব ডিলারদের কাউকে কাউকে চাল পাচারের সময় আটক হলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি তাদের বিরুদ্ধে। এ কারণে সরকারী সহায়তার এসব চাল পাচার বন্ধ হয় নি। ওএমএস’র চাল ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সংবাদও ছাপা হয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে। শুক্রবার ভোরে শাল্লায় ওএমএস’র ৬৯ বস্তা চাল আটক হয়েছে। কিন্তু চাল পাচারের সঙ্গে যুক্ত কেউ আটক হয় নি। কিংবা কার চাল সেটিও সনাক্ত হয় নি।
শাল্লা উপজেলার সহদেবপাশা গ্রামের পাশের নদীতে ট্রলারে করে এই চাল আনা হয়েছিল, চাল জব্দ হয়েছে, কিন্তু ট্রলার পায় নি পুলিশ!।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলা সদরের ২ জন এবং যেখানে চাল পাওয়া গেছে সেখানকার পার্শ্ববর্তী মনুয়া বাজারের ডিলারও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে জামালগঞ্জে পাচারের সময় ২০ বস্তা ওএমএস’র চাল আটক হয়। এ ঘটনায় ফেনারবাঁক ইউনিয়নের সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা সুব্রত পুরকায়স্থ’র ডিলারশিপ বাতিল হয়।
গত জুন মাসে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে ১৭ বস্তা চাল পাচারের সময় আটক হয়। এ ঘটনায় রফিনগর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা রনি দাসের ডিলারশিপ বাতিল হয়। ঐ মাসেই ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়নে পাচারের সময় ২০ বস্তা চাল আটক হয়। এ কারণে সিংচাপইড় ইউনিয়নের সরকার দলীয় কর্মী জাহাঙ্গীর আলমের ডিলারশিপ বাতিল হয়। একই সময়ে অনিয়মের অভিযোগে জগন্নাথপুর উপজেলা যুব লীগের সদস্য আব্দুল বারী’র ডিলারশিপ বাতিল হয়। ডিলারশিপ বাতিল ছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।
কমিউনিস্ট পার্টি সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি চিত্ত রঞ্জন তালুকদার বললেন,‘সরকারের এতো বড় একটি সহায়তা কর্মসূচি যেমন সুনাম কুড়িয়েছে, তেমনি অসৎ কিছু নেতা-কর্মীর জন্য দুর্নামও হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন ছিল। সংশ্লিষ্টরা তা করেন নি। সুনাম কুড়ানো এবং অসৎ কর্মী পোষা একসঙ্গে হয় না। শুরুতেই সহায়তা কর্মসূচির এই চাল পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনিয়ম রোধ করা যেত।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘দলের কর্মী বা নেতা হলেই এমন অনিয়মে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। ওএমএস ডিলারদের অনিয়মের অভিযোগ আমিও শুনেছি। দুই-চার জনের দায়িত্বহীন আচরণের কারণে সরকারের এতো বড় কর্মসূচির সুনাম নষ্ট হতে পারে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইননুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বললেন,‘ওএমএস ডিলারদের অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা কমিটি। সুনামগঞ্জে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কয়েক জনের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে। ২ জনের নামে মামলাও হয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার সুযোগ নেই।’
গত এপ্রিল মাস থেকে জেলার ১১০ টি কেন্দ্রে ওএমএস’এর (প্রথমে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়) চাল ১ মেট্রিক টন করে দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী একজন ক্রেতা ৫ কেজি করে চাল কেনার সুযোগ রয়েছে।



আরো খবর