- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কঠোর -খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, গেল ৩ বছর যাবৎ কোনো ফরিয়ার মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয় না। কৃষকদের নামে ধান সংগ্রহের তালিকা করা হয়। সেখানে সরাসরি কৃষকের কাছে টাকা চলে যায়। এখানে ফরিয়াদের সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই।
সোমবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাদ্য গোদাম পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নতুন ধান উঠেছে, এতে চালের দাম কমার সম্ভবনা রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজারমূল্য থেকে চালের দাম আরও কমালে কৃষক মরে যাবে। সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধানের দাম ১০৮০ টাকা করা হয়েছে বাজার ব্যালেন্স করার জন্য। যারা ব্যবসায়ি, আড়তদার রয়েছে তারা যেনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
প্রতি বছর কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে ধানের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা করা হয় নি উল্লেখ করে দাবি জানানো হয়, সরকার কৃষকদের ধানের দাম বৃদ্ধি ও বাজারে চালের দাম কমানোর জন্য। এমনটা সম্ভব কী না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবছর অনেক টাকা ভতুর্কি দেয়। সে ভতুর্কি হিসেব করে যুক্তিক মূল্য এক হাজার আশি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ, প্রকৃতির উপর নির্ভর করি। এবার আগাম বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি করেছে। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। প্রতি বছর বেড়িবাঁধ দেয়ার কারণে হাওরে ধান হয়। হাওর মূলত মাছের জন্যে। এটা আমাদের বাড়তি ফসল করা হয়। কৃষকেরা ধান চাষ করতে করতে হাওরের তলদেশ পর্যন্ত চলে যায়। গেল কয়েক বছরে অসুবিধা হয় নি। এবার আগাম বন্যার কারণে কৃষক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে দ্রুত ফসল কৃষকের ঘরে তুলার। নতুন আবিষ্কৃত বঙ্গবন্ধু ১০০ ধান কম সময়ে বেশি ফলন হয়। সেটা বাজারে আসতেছে। সেটা আসলে হাওর এলাকার মানুষ অনেক সুখী হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমানারা খানুম, শান্তিগঞ্জ শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ারুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, শান্তিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ধীরাজ নন্দি চৌধুরী প্রমুখ। এরআগে মন্ত্রী সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর খাদ্যগোদাম পরিদর্শন করেন।
তাহিরপুর খাদ্য গোদাম পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী বলেন, সরকারী খাদ্য গোদামে ভাল মানের ধান চাল সংগ্রহ করতে হবে। খাদ্য গোদামের মওজুদকৃত চাল সারাদেশে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীতে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। বিক্রয় করা চালের গুণগত মান ভাল হলে সরকার প্রশংসিত হবে।
এসময় সুনামগঞ্জ—১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. রায়হানুল কবীর, পরিচালক (চলাচল সংরক্ষণ ও সাইলো) মো. জামাল হোসেন, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাইনুদ্দিন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর, সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকীব সাদ মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিএম মুশফিকুর রহমান প্রমূখ।
উপজেলা খাদ্য গোদাম পরিদর্শন শেষে তিনি টাঙ্গুয়ার হাওর ও শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক) এর উদ্দেশ্যে ভ্রমণে যান। ভ্রমণ শেষে বিকেল ৫টায় তিনি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে চলে যান।

  • [১]