চায়ের কাপে ঝড়

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের হাওয়ায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ জনপদ। প্রার্থী সমর্থকদের বিরাজহীন প্রচারণায় সরগরম এলাকা। গ্রামীণ মেঠো পথ থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে হরেকরকম বাহারি শব্দে, ছন্দে পছন্দের প্রার্থীদের প্রচার চলছে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৬ জুন উপজেলা নির্বাচনের প্রথম তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে স্থগিত করা হয় নির্বাচন। গত ২০ সেপ্টেম্বর পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে ২ নভেম্বর ভোট গ্রহণের সিদ্বান্ত হয়। এরইমধ্যে মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান (মোটরসাইকেল), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ (আনারস), জমিয়তে উলামে ইসলামের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (খেজুর গাছ) ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী (ঘোড়া)। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী, সমর্থকদের প্রচার প্রচারণায় জমে উঠছে নির্বাচনী উৎসব। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা।
প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় ঝড় চলছে সমর্থক ও ভোটাররা। নির্বাচনে কে জিতবে, কে হারতে পারে, কোন প্রার্থীকে কোন গোষ্ঠির লোকজন সমর্থন করছে, কিংবা করবে। প্রার্থীদের আচার-আচারণ, ব্যবহার, স্বভাব, চরিত্র কেমন এসব নানা বিষয় নিয়ে ফলনের মাঠ থেকে চায়ের টেবিলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। পাশাপাশি কে প্রার্থী মাঠে কালো টাকা ছড়াচ্ছে তাও আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের চায়ের দোকানদার মিজানুর রহমান জানান, নির্বাচনী আমেজে চা বিক্রি বেড়েছে। চায়ের সঙ্গে পান, সিগারেটও বিক্রি হচ্ছে। চায়ের টেবিলে নির্বাচনী খবরাখবর নিয়ে ঝড় তুলছেন ভোটাররা।
নলুয়া হাওরেরপাড়ের দাসনাগাঁও গ্রামের চা বিক্রেতা সুজন বলেন, গ্রামের লোকজন সময় চা খেতে এসে নির্বাচনী আলোচনায় জড়িয়ে পড়ছেন। জমে উঠছে আলাপ আলোচনা। এজন্য চায়ের কদর বেড়েছে। আগের তুলনায় চায়ের বিক্রিও বাড়ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরামের নেতা রোমানুল হক রুমেন জানান, উপজেলা নির্বাচন কে সামনে রেখে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সর্বত্র ঝড় উঠছে নির্বাচনী আলোচনায়। প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলা জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের সকাল ধরনের নির্বাচনী অনুষ্ঠান উৎসবে পরিণত হয়। এ নির্বাচনেও উৎসবের যেন কমতে নেই।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার শুকুর মাহমুদ বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা মাঠে প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আগামী ২ নভেম্বর ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।