চায়ের দোকানীকে ইয়াবা দিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ডিবির এএসআই’র বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
গোয়েন্দা শাখার এএসআই মামুন মিয়া একজন নিরীহ চায়ের দোকানীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও সুনামগঞ্জর পুলিশ সুপার বরাবরে এই অভিযোগ বুধবার দায়ের করেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের কাঠাখালী বাজারের মো. রহমত আলী। এএসআই মামুন বলেছেন,‘এই অভিযোগ অপরাধীদের সাজানো।’
লিখিত অভিযোগে রহমত আলী উল্লেখ করেছেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩ টায় এএসআই মামুনসহ ৩-৪ জন সাদা পোশাকের পুলিশ তার চায়ের দোকানে ঢুকে ক্যাশে বসেন। কিছুক্ষণ পর বলেন, দোকানে একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতর ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে দোকানে বসে থাকা জালালপুরের রেজা মিয়া ও একই গ্রামের সাব্বির মিয়া এএসআই মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রহমত আলী ভাল মানুষ, নিরীহ প্রকৃতির, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেউ বিশ্বাস করবে না।’ এএসআই মামুন ভয় দেখান বিষয়টি কাউকে জানালে তুলে নেওয়া হবে তাকে (রহমতকে)। পরে রেজা ও সাব্বিরের মধ্যস্ততায় কয়েকজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এএসআই মামুনের হাতে তুলে দেন রহমত আলীর ভাই রুবেল মিয়া। ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক রহমত আলী এখনও এই ঋণ শোধ করতে পারেননি। বুধবার এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে এসে পুলিশ সুপারের কাছে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রহমত আলী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য অজিত চন্দ্র দাস বলেন,‘একেবারেই নিরীহ একজন মানুষকে ভয় দেখিয়ে এএসআই মামুন ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বাজারের সকলেই তা জানেন। এখনও রহমত এই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি।’
এএসআই মামুন এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন,‘ওই এলাকায় মাদক, জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি আমি। আমার ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই অভিযোগ করা যেতো। ৪ মাসের আগের একটি মিথ্যা অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়ের করে আমাকে হেনস্থা করতে চাইছে অপরাধীরা।’