চিকিৎসক-কর্মচারী সংকটে সেবা ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কর্মচারী না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। গাইনি চিকিসক ও অবেদনবিদ না থাকায় প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয় না এখানে। জরুরি বিভাগ সামলাতে হয় ওয়ার্ড বয় ও ব্রাদারকে। একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চালক নেই।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকার কথা নয়জন, কিন্তু বর্তমানে আছেন চারজন। এর মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, দুইজন জুনিয়র মেডিকেল অফিসার ও একজন ডেন্টাল চিকিৎসক। পদ শূন্য আছে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরওএম) ও চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্টের। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় তিনশ’ রোগী সেবা নিতে আসেন। ভর্তি রোগী থাকেন প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০জন। এই চারজন চিকিৎসকই সবাইকে সেবা দেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান সহকারী, পরিসংখ্যানবিদ, ল্যাব টেকনিশিয়ান পদে কোনো লোক নেই। তিনজন আয়া থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। ২০০২ সালে একটি এক্স-রে মেশিন আনা হলেও রেডিওলজিস্ট না থাকায় এটি কখনো চালু হয়নি। হাসপাতালের নিজস্ব একটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। কিন্তু সরকারি কোনো চালক নেই। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে একজন অস্থায়ী চালক দিয়ে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কয়েজন বাসিন্দা জানান, উপজেলার প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র এটি। কিন্তু এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও কর্মচারী নেই। শুরু থেকেই এখানে কোনো অপারেশন হয় না। অনেকেই জেনে গেছেন, এখানে প্রসূতি মায়েদের সিজারের প্রয়োজন হলে সেটা করা সম্ভব নয়। তাই সমস্যা হলে এখানে না এসে সুনামগঞ্জে চলে যান। এতে তাদের অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখানে জরুরি ভিত্তিতে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ দেওয়া দরকার। তাহলে এলাকার মানুষজন বেশি উপকৃত হবেন।
স্বাস্থকমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত ওয়ার্ডবয় বিনয় পাল জানান, তিনি ও একজন ব্রাদার মিলেই জরুরি বিভাগে আসা লোকদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে থাকেন। তবে জটিল কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকদের ডেকে আনা হয়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। হাওর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষজন এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তারা প্রয়োজনীয় সেবা পান না। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের সমস্যা হয় বেশি। জটিল সমস্যা হলেই সুনামগঞ্জ কিংবা সিলেটে যেতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, আমরা যারা আছি তারা প্রয়োজনীয় সেবা দিতে চেষ্টা করি। যেহেতু চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট আছে তাই কিছুটা সমস্যা তো হবেই। এখানে গাইনি চিকিৎসক ও অবেদনবিদ না থাকায় শুরু থেকেই কোনো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয় না। আমরা প্রতিমাসের প্রতিবেদনেই চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে থাকি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের বিষয়টি উধর্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত আছেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি জেলায় কিছু নতুন চিকিৎক নিয়োগ হবেন। তখন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসক দেওয়া হবে।