চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপন ও সরকারের ধারাবাহিকতা

একনেক সভায় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপনের কাজ আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকে চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করল। রবিবার একনেক সভায় এই চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ১০৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী যাঁকে সুনামগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার বললে একটুও ভুল হবে না, সজ্জন রাজনীতিবিদ এমএ মান্নানের প্রস্তাবে চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের নাম রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। অর্থাৎ সুনামগঞ্জে নির্মিতব্য এই বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম হবে বঙ্গবন্ধু সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় মানুষের স্বপ্ন এখন ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। তারা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন কবে শুরু হবে এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণের কাজ এবং কোন বছর থেকে এখানে শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হবে। তবে একনেকে যেহেতু প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে তাই এখন এর চূড়ান্ত রূপ দেখা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমাদের জানা মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তর তথা যেকোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ আর্থিক বরাদ্দ বিশিষ্ট। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল রূপকার হলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় প্রকল্প অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে দাপ্তরিক কর্মকা-ে মন্ত্রীর পক্ষে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ প্রশাসনিক কার্যালয়ে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন সুনামগঞ্জের আরেক সুসন্তান উদীয়মান শিল্পপতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা শ্যামল রায়। নিজ জন্মভূমি ও জেলাকে ভালবেসে তাঁরা যে দায়িত্ব পালন করেছেন সেটি আমরা সকৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণে রাখব। তাঁদের অভিনন্দন।
উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে এবং একে আরও এগিয়ে নিতে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা একটি অপরিহার্য শর্ত। অনেক সময় সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে এক সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প অন্য সরকার বাস্তবায়ন করতে দ্বিধা করে। ক্ষেত্র বিশেষে বাতিল করে দেয়। বাংলাদেশে এরকম বহু দৃষ্টান্ত অতীতে আমরা দেখেছি। জেলায় চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপনের যে প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, এই সরকারের আমলে সেই কাজ শুরু করার কোন বাস্তবতা নেই। কারণ আর কয়েকদিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর সরকারের হাতে রুটিন কাজ করার বাইরে আর তেমন কোন ক্ষমতা থাকে না। সুতরাং চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়টি সাকারে দেখতে আমাদের আগামী সরকার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রায়শ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ভোট দিতে জনসাধারণের প্রতি আবেদন জানিয়ে থাকেন। তিনি যে নিজে নিছক একজন মন্ত্রী, এমপি হওয়ার জন্য এমন আবেদন করেন আমাদের কাছে তা মনে হয় না। বরং তিনি নিজের সরকারি চাকুরি জীবন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এলাকার উন্নয়নে যেমন সর্বদা তৎপর থেকেছেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে সেই মানসিকতা থেকেই তাঁর এমন আবেদন। তিনি বহু কষ্ট করে দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় জেলায় একটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপনের যে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে যদি সেই প্রকল্প অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে তবে সেটি হবে পুরো সুনামগঞ্জবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা কায়মনোবাক্যে কামনা করি এমন দুর্ভাগ্য যেন আমাদের দেখতে না হয়।