চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবি ইউপি সদস্যদের

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আত্মসাত, স্বেচ্ছাচারিতা, বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় মধ্যনগর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালিব, আনিসুজ্জামান, জীবন কৃষ্ণ তালুকদার, সেজুনা আক্তার, খোদেজা বেগম, বকুল তালুকদার, রতন সরকার, দুলাল মিয়া।
ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ইউপি সদস্যরা একাধিবার অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তা স্থানীয়ভাবে সুরাহা হলেও ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অনাস্থা প্রস্তাব করেন। ইউপি সদস্যদের দেওয়া সর্বশেষ অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তৎকালীন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বিষয়টি তদন্ত করে ইউপি সদস্যদের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২৭ মে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জেলা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালককে বিষয়টি সরোজমিনে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহমেদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান একজন নেশাগ্রস্ত মানুষ। নেশার ঘোরে ইউপি সদস্যদের সাথে অসদচারণ করে। তাঁর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমরা সদস্যরা বারবার অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাত কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালকের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তা করা হয়নি।’
ইউপি সদস্য সেজুন আক্তার বলেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাব দ্রুত কার্যকর করে তাকে (চেয়ারম্যান) অপসারণ করে ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নের কাজ করার সুযোগ দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন, ‘তৃতীয়বারের (সর্বশেষ) মতো যখন অনাস্থা প্রস্তাব করা হয় তার পরদিন ইউনিয়ন পরিষদে সকল ইউপি সদস্য লিখিতভাবে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন। বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সত্য নয়।’ তবে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়নি বলে দাবি করেন ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহমেদ ও আব্দুল মোতালিব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘অনাস্থা প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’