চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিদ্রোহীরা মাঠে নামতে পারে

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
দীর্ঘ ১৬ বছর পর জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে বিগত এক বছর প্রবাসীসহ এক ডজন প্রার্থী মাঠে প্রচারণায় থাকলেও হঠাৎ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণায় প্রার্থীরা বেকায়দায় পড়েন। সময় স্বল্পতায় অনেক প্রবাসী দেশে আসতে পারছেন না।
শনিবার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদিরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। এ মনোনয়ন কে চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে মাঠে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক শেরিন ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির আলী। দু’জনই প্রার্থী মনোনয়ন সঠিক হয়নি উল্লেখ করে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা এ সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিএনপি প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুয়ায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর, বাছাই ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২২ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ১৪ অক্টোবর।
মীরপুর ইউনিয়ন বাসিন্দারা জানান, ২০০৩ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন। ২০০৮ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য আকমল হোসেন মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অব্যাহতি নেন। এসময় তিনি ইউপি সদস্য জমির উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোন নির্বাচন হয়নি। চেয়ারম্যান বিহীন পুরোনো ইউপি সদস্যদের দিয়ে কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। ২০০৭ সালে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ চলাকালীন সময়ে মীরপুর ইউনিয়নের লহড়ি গ্রামের একটি অংশ জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলার ভোটার হওয়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০১১ সালে দশঘর ইউনিয়নের ঈশাবদাউ গ্রামের আব্দুল মানিক হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। যার কারণে আইনি জটিলতায় দুই ইউনিয়নের নির্বাচন আটকে যায়। গত বছরের ২৮ আগস্ট দুটি ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা রিট খারিজ করে দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে ইউনিয়ন দুটিতে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এসময় নির্বাচনে অংশ নিতে কমপক্ষে এক ডজন প্রার্থী মাঠে প্রচারণা নামেন। হঠাৎ করে এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদী মানিক মিয়া উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করলে আবারো দুই ইউনিয়নে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সম্প্রতি আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশের ৮টি উপজেলা ও জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন সহ ১২৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচণের তফশিল ঘোষণা করে।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় মীরপুর ইউনিয়নে অন্যরকম নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ৫ সেপ্টেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন মাষ্টার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক শেরিন, আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস আহমদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন এর নাম প্রস্তাব করা হয়।
মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে অংশ নিতে মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস আহমদ ও মাহবুবুল হক শেরিন। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল তাদের মধ্যে কেউ একজন দলীয় মনোনয়ন পাবেন। দলের মনোনয়নে নেতাকর্মীরা হতাশ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক শেরিন বলেন, নির্বাচন করার সংকল্প নিয়ে এক যুগ ধরে মাঠে কাজ করছি। দলীয় মনোনয়নে অবিচার করা হলেও নির্বাচনী এলাকার মানুষ নির্বাচনে অংশ নিতে আমাকে চাপ দিচ্ছেন। তাদের মতামত কে সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নিব।
মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন বলেন,দীর্ঘ দিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মানুষের জন্য কাজ করেছি। ভারমুক্ত হতে ভোটারদের কাছে যাব।