ছাতকের দু’শ মিটার সড়ক শহরবাসীর দুঃখ

বিজয় রায়, ছাতক
ছাতক শহরের দুটি সংযোগ সড়ক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন প্রায় দু’শ মিটার সড়ক শহররবাসীর জন্য দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সড়কগুলোর সংস্কার কাজ হচ্ছে না একযুগেরও বেশী সময় ধরে। এক পর্যায়ে জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে প্রায় দেড় বছর আগে সওজর পক্ষ থেকে ইট সলিং করে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা হয়। বর্তমানে রাস্তাটি আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে। অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের এ অংশটি পৌরসভার অভ্যন্তরে হলেও সড়কটির নিয়ন্ত্রণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের হাতে। এ ছাড়া শহরের রেলওয়ের মসজিদ থেকে রেলওয়ে ষ্টেশন পর্যন্ত এবং কলেজ রোডের সিএনজি ষ্ট্যান্ড থেকে রেলওয়ে সড়ক পর্যন্ত সড়কও বেহালদশায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। দুটি সংযোগ সড়কসহ ইট সলিংয়ের দু’শ’ মিটার রাস্তা শহরের সৌন্দর্য্যকে অনেকটা ম্লান করে রেখেছে।
শহরের কাষ্টম এলাকা থেকে ডাকবাংলা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় দু’ শ’ মিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। দুধের স্বাদ পানিতে মেটাতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ সড়কের এ ভাঙ্গা অংশ ইট সলিং করে দায়মুক্ত হয় প্রায় দেড় বছর আগে। বর্তমানে রাস্তার এ অংশটি আবারো পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছে। ফলে দুর্ভোগ মেনে নিয়েই যাতায়াত করছেন শহরের লোকজন। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরের বৌলা, তাতীকোনা, মোগলপাড়া, চরেরবন্দ, মন্ডলীভোগ, ইসলামপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামসহ কোম্পানীগঞ্জের ইছাকলস ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এসব এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মন্ডলীভোগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাতক সরকারী বহুমুখী মডেল হাইস্কুল, ছাতক সরকারী অনার্স-ডিগ্রী কলেজ, সরকারী টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজ ও জালালিয়া আলিম মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে আর কোন বিকল্প পথ নেই। যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের পোষাক-পরিচ্ছদ কাদা ও জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে প্রায়ই নষ্ট হতে দেখা গেছে। এতে করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে ফিরতে হচ্ছে বাসায়। প্রায় একযুগ আগে শুরু হওয়া শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক মেরামত কাজ চারটি ধাপে শেষ করার কথা ছিল। এর মধ্যে তিনটি ধাপে কাষ্টম এলাকা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৯ বছর আগে। শুধুমাত্র এ অংশটুকু পড়ে আছে মেরামতের অপেক্ষায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর তাপস চৌধুরী জানান, পৌরবাসীকে বুঝতে হবে যে, পৌরসভার অভ্যন্তরে হলেও সড়কটি মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগের। ইচ্ছে করলেও পৌরকর্তৃপক্ষ এ অংশটুকু মেরামত করতে পারবে না। তবে শহরবাসীর যাতায়াতের সুবিধার জন্য একাধিকবার ভাঙ্গা অংশে ডাষ্ট ফেলা হয়েছে। ভাঙ্গা এ অংশটুকু সংস্কারের জন্য মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন। প্রায় তিন বছর আগে সওজ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজীব আহমদ এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন, ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়ক ও ডাকবাংলা সংলগ্ন প্রায় আড়াই শ’ মিটার সড়ক মেরামতের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু আজোবদি সড়কের এ অংশটি একই অবস্থায় পড়ে আছে। এদিকে রেলওয়ে মসজিদ পয়েন্ট থেকে রেলওয়ে ষ্টেশন পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও একেবারে লেজে-গোবরে। অনিয়মিতভাবে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রায় ৩ যুগ ধরে রেলওয়ের এ সড়কটিতে সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। প্রায় ৬ বছর আগে লাফার্জের পরিবহন সুবিধার জন্য রেলওয়ে ক্রসিং থেকে রেলওয়ে ষ্টাফ কোয়াটার পর্যন্ত এবং রেলওয়ে সংযোগ সড়কের ব্রিজ হতে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের মুখ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল লাফার্জের অর্থায়নে। কিন্তু লাফার্জের ভারী ট্রাক-লরী ও সিমেন্টবাহী বড়-বড় কার্গোট্রাক নিয়মিত চলাচলের কারণে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়কটি আবারো পূর্বাস্থায় ফিরে যায়। কোর্ট রোড নামে পরিচিত এ সড়কটির দায়িত্বে আছে পৌরসভা। রেলওয়ে ষ্টেশন হতে বাকী অংশ আবার রেলওয়ে বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। কোর্ট রোড দিয়েই উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করতে হয়।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন জানান, সড়কটির মালিকানা পৌরসভার। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সাথে সংযুক্ত উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে লাফার্জ ও আকিজ ফ্যাক্টরীর ভারি-ভারি যানবাহন চলাচল করে থাকে। কিন্তু সড়ক সংস্কারে কেউ এগিয়ে আসছে না। সড়কটি সংস্কারের দাবীতে একাধিকবার এলাকাবাসী মানববন্ধন, অবরোধ কর্মসূচীসহ আন্দোলন করেছে। সর্বক্ষেত্রেই ফলাফল শূন্য।