ছাতকের ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত

জাউয়া প্রতিনিধি
ধলাই নদী বালু মহালে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ছাতকের বালু ব্যবসায়ীরা। বালু উত্তোলনে জড়িত প্রায় ৪ হাজার দরিদ্র শ্রমিক এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ধলাই নদী বালু মহালে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রবিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশানারসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ছাতকের বালু ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
লিখিত ওই অভিযোগে বলা হয়, ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ধলাই নদী বালু মহাল। বছরের পর বছর ধরে বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকরা নিজ হাতে জীবিকার তাগিদে নৌকা, টুকরি ও বালতিসহ মহাল থেকে বালু উত্তোলন করে থাকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উত্তোলনকৃত এসব বালু বল্কহেড ও কার্গো দিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করে থাকেন। কিন্তু গত দুই বছর যাবৎ বালু মহালে ড্রেজার মেশিন দিয়ে স্বল্প খরচে বালু উত্তোলন করায় বালু উত্তোলনকারী দরিদ্র শ্রমিকরা অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন। শ্রমিকদের হাতের বালতি ও টুকরি দিয়ে উত্তোলনকৃত বালুর খরচ বেশী হওয়ায় বেশী দামে কেউ এসব বালু কিনতে চাইছেন না। বালু ব্যবস্থাপনা আইন ২০১১ সালের নিয়ম অনুযায়ী বালু মহালে শর্ত ভঙ্গ করেই অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ করেও আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বালু মহালের গভীরতা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে নদী ভাংগনের আশংকা রয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিবেশের হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
ছাতকের একাধিক বালু ব্যবসায়ী জানান, গত দুই বছর ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে কম মূল্যে বহিরাগত ব্যবসায়ীর কাছে বালু বিক্রয় করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হাতে উত্তোলন করে ১০/১১ টাকা ঘনফুট হিসেবে বালু বিক্রি করলেও ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনকৃত বালু ৮/৯ টাকা ঘনফুট বিক্রি করা হচ্ছে।
ছাতক বাজার একতা বালু উত্তোলন ও সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লিমিটেডের সভাপতি আব্দুস সত্তার ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, ধলাই নদী বালু মহালে দিন রাত অসংখ্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার কয়েক হাজার দিনমজুর শ্রমিক বেকার হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নৌকার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীরা বালু ক্রয়ের অর্ডার না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, ধলাই নদী বালু মহালে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, ড্রেজার চালানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ধলাই সেতু সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।