ছাতকের সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবারও তদন্ত

স্টাফ রিপোর্টার
ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদেরর সেই চেয়ারম্যান (সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল) এর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আরেকবার তদন্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তা এই তদন্ত করেন। এবার ছাতকের ৭ ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিংচাপইর ইউনিয়নের ৫ জন ইউপি সদস্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ব্যাপি ছাতক উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ছাতকের ৮ ইউপি চেয়ারম্যান, সিংচাপইর ইউনিয়নের ৫ ইউপি সদস্যকে অভিযোগ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। এসময় তাদের লিখিত বক্তব্যও নেন তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ। তদন্তকালে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল উপস্থিত ছিলেন না। তদন্তকালে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির বলেন,‘তদন্ত কমিটির কাছে যা সত্য তাই তুলে ধরেছেন বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যানসহ জন প্রতিনিধিরা, ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল বিভিন্ন সময় যেসব আচরণ করেছেন তাই বলা হয়েছে, কেউ মিথ্যা কোন তথ্য দেননি।’
তদন্তকালে উপস্থিত ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হেকিম বলেন, ‘আমরা যেটুকু ঘটনা হয়েছে, সেটুকু বলেছি।’
তদন্তকালে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলের ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত কালারুখা ইউপি চেয়ারম্যান মো. অদুদ আলম বলেন,‘ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলের বিরুদ্ধে আনা বেশিরভাগ অভিযোগের সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে সাহেল কেন উপস্থিত নেই জানতে চেয়েছিলাম, তারা বলেছেন প্রয়োজন হলে তাকে ডাকা হবে।’
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার দোলন মিয়া এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শোভন রাংসা তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট ছাতক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু ছাদাত লাহিনসহ ৮ জন জনপ্রতিনিধি স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসকের নিকট দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়- ‘ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে উপজেলা পরিষদের প্রথম পরিচিতিমূলক সভা থেকে শুরু করে সর্বশেষ ১০ আগস্ট মাসিক সমন্বয় সভার পরিবেশ নষ্ট করে দেন সাহেল। এর আগে গত ২ আগস্ট সাহেলের অনিয়ম দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করায় ঐ ইউপি’র ৩ সদস্যকে নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে চেয়ারম্যান সাহেল শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।
জনপ্রতিনিধিদের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এই তদন্ত হয় বলে জানান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন। তিনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মো. সাহেলকে উপস্থিত রাখার জন্য শতভাগ চেষ্টা করেও পারা যায়নি। তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
গত ১৭ মে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ফেইসবুকে লাইভ দিয়েছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।