ছাতকে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৯ জনকে দেয়া হয়নি বয়স্ক ভাতা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে এক ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে সরকারী কার্ডধারী ৯ জনের বয়স্ক ভাতা আটকে রেখেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে এসব বয়স্ক মানুষকে ভাতা নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে । ভাতা না পেয়ে ভুক্তভোগী এসব বয়োবৃদ্ধ মানুষ বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাংকের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদও জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর কৃষি ব্যাংকের সামনে।
জানা যায়, দোলারবাজার ইউনিয়নের অন্যান্যদের মতো ৫নং ওয়ার্ডের বয়োবৃদ্ধ ১১ জনের কার্ড সরকারিভাবে ইস্যু করা হয়। তাদরে বয়স্ক ভাতার কার্ডের প্রতিটি ছবিতে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের সিল-সাক্ষরও রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তাদের কার্ড ইস্যু করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত ভাতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদ-উল আযহায় তাদেরকে ভাতা বঞ্চিতভাবে নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ছিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ভাতাভোগীদের ভাতা প্রদানের দিন। ওইদিন কৃষি ব্যাংক মঈনপুর শাখা থেকে উপকারভোগীদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছিল। ভাতা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় বঞ্চিত ১১ জন আবারো ভাতা নিতে এসে তাদের ভাতার কার্ড ব্যাংকে জমা দেয়। দূর-দূরান্ত থেকে এসে সকাল থেকে ভাতা প্রাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে ব্যাংকের সামনে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন তারা। কিন্তু ভাতা প্রাপ্তির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আর তাদের হয়ে উঠেনি।
একই সাথে ইস্যুকৃত কার্ডধারীদের মধ্যে সুমিনা বেগম ও লাল বিবিকে ভাতা প্রদান করা হলেও বাকী ৯ জন জহুরা বিবি, বই নং-১১০৯৩ ও হিসাব নং-১৪২৩, ইন্তাজ আলী, বই নং-১১০৯৫ ও হিসাব নং-১৪২৫, কমরুন নেছা, বই নং-৬২২৪ ও হিসাব নং-১২৭২, এছন বিবি, বই নং-১১১০৪ ও হিসাব নং-১৪২৮, সবজান বিবি, বই নং-১১০৯৪ ও হিসাব নং- ১৪২৪, জয়ফুল বিবি, বই নং-১১১২২ ও হিসাব নং-১৪২৯, আহমদ আলী, বই নং-১১০৯৯ ও হিসাব নং-১৪২৭, নেকজান বিবি, বই নং-৬২১৮ ও হিসাব নং-১২৭১ ও ফুল তেরা বিবি, বই নং-১১০৯৬ এবং হিসাব নং-১৪২৬ কে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। ভাতা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তারা বুঝতে পারেন আজো তাদের ভাতা প্রদান করা হবে না। এসময় বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষের মধ্যে এক বেদনাদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দ্বিতীয় বারের মতো ভাতা না পেয়ে বঞ্চিতরা কার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করেন।
এসময় তারা জানান, চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া অনৈতিক চাহিদা না পাওয়ায় তাদের ভাতা অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছেন। জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কৃপাদৃষ্টি কামনা করেছেন ভাতা বঞ্চিতরা।
কৃষি ব্যাংক মঈনপুর শাখার ম্যানেজার ক্ষিতিশ রঞ্জন তালুকদার জানান, তাদের কার্ডে কোন রকম জটিলতা নেই। তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকাও বরাদ্দ রয়েছে। শুধুমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়ার নির্দেশে তাদের ভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া জানান, তার নির্দেশেই এসব কার্ডধারীদের ভাতা আটকে রাখা হয়েছে। এসব কার্ড তার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়নি বলে তিনি ভাতা প্রদানের জন্য নিষেধ করেছেন। তবে তারা যদি তাদের ভাতার কার্ড তার কাছে জমা দেয়, তখন তিনি ভাতার প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানান।