ছাতকে কাঁচাবাজার আবারও প্রধান সড়কে

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হলেও মানুষ এর তোয়াক্কা না করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মতো চলাফেরা করতে শুরু করেছে। ফলে এখানের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মহামারী আকার ধারনের আশংকা করছেন শহরবাসী।
ঈদ উপলক্ষে দেশের লকডাউন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার সুবাদে সাধারন মানুষ শহর ও বাজারমুখী হতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এখানের অধিকাংশ দোকানপাট ও বিপনী বিতানগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খোলা রাখলেও সব ধরনের দোকানেই মানুষের ভিড় ছিল বরাবরের ঈদের মতোই। ঈদ পরবর্তিতে আবারো শহর ও বাজারমুখী হয়ে পড়েছে মানুষ। মানছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি ও রাখছে না কোন সামাজিক দূরত্ব। এদিকে শহরে আসা শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ও ব্যবসায়ী ব্যবহার করছেন না মাস্ক।
অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে এখানের কাচামাল ব্যবসায়ীরাও। আগের মতোই প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করেছে তারা। কিছু-কিছু কাচামাল ও ফল ব্যবসায়ীরা আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে তারা তাদের পূর্বে স্থানে দোকান খুলতে শুরু করেছে। রমজান শুরু হওয়ার আগেই শহরের প্রধান সড়কের উপর জনচাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এখানের কাচা বাজার, ফল, মাছ, পান-সুপারীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসা ছাতক শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে (মন্টু বাবুর মাঠ) স্থানান্তর করেছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
দেশের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফার্মেসী ছাড়া সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খোলা রেখে এখানের সকল দোকানপাট ভালোই চলছিল। কিন্তু রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠে এখানের কাচাবাজার ব্যবসায়ীরা। স্থানান্তরিত নির্ধারিত স্থান থেকে আস্তে-আস্তে শহরের প্রধান সড়কে উঠে আসতে থাকে। বর্তমানে এখানের বাজার পরিস্থিতি দেখলে যে কেউ মনে করবে মহামারী হয়তো বিদায় নিয়েছে। শহরের কিছু সংখ্যক দোকান ও মার্কেটগুলো নির্ধারিত সময়ে বন্ধ করা হলেও শহরের অলি-গলির বেশ কিছু দোকান রাত প্রায় ১০ পর্যন্ত খোলা রাখতে দেখা গেছে। শহরের গলির কয়েকটি চায়ের দোকানে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রেখে বেচা-কেনা করতে দেখা গেছে। রাতে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে দেখা গেছে কতিপয় ব্যবসায়ী কাচামাল, মাছ ও চায়ের দোকান খুলে বসতে। এখানে কেনা-বেচার পাশাপাশি আড্ডায়ও মত্ত হয় কিছু অতি উৎসাহিত মানুষ। সন্ধ্যার পর প্রশাসনিক ও পুলিশি তৎপরতা তেমন না থাকায় তারা বিনা বাধায় ও অবাদে ব্যবসা খুলে বসতে পারছে বলে অনেকেই মনে করেেছন।
এদিকে প্রতিদিনই এখানে করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত এখানে ২৪ জন করোনা রোগীর শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশীরভাগই ঈদ পরবর্তী সময়ে শনাক্ত হয়। বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা না হলে এখানের করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারন করার আশংকা করছেন অভিজ্ঞ মহল।