ছাতকে ধান সংগ্রহে অসম্পূর্ণ কৃষক তালিকা বাতিল

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে বোরো ধান সংগ্রহে কৃষি বিভাগকর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রাথমিক কৃষক তালিকায় অসম্পূর্ণ ও অসংগতি থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রোষানলে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। প্রস্তুতকৃত তালিকায় প্রকৃত কৃষকের জায়গায় মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের নাম অন্তর্ভুক্ত এবং অস্বচ্ছতা থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবির ক্ষুব্ধ হয়ে এ তালিকা বাতিল করে পরবর্তি দু’দিনের মধ্যে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন।
এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত বোরো ধান সংগ্রগে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক নির্বাচনে উন্মুক্ত লটারী অনুষ্ঠিানে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ লটারী অনুষ্ঠান বাতিল করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খানের তীব্র তোপের মুখে পড়েন উপস্থিত ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
এসময় কোন ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির অদৃশ্য চাপ উপেক্ষা করে প্রকৃত কৃষকদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বারসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি সম্বলিত তালিকা তাদের প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন কৃষি কর্মকর্তা। এসময় কৃষি কর্মকর্তাকে বেশ বিচলিত হতে দেখা গেছে। প্রস্তুতকৃত অসম্পূর্ণ তালিকা বাতিল করায় দু’একজন ছাড়া উপস্থিত সকলেই একজন দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্পষ্টবাদী কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবিরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জানা যায়, চলতে বোরো মৌসুমে আভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক নির্বাচন উপলক্ষে উন্মুক্ত লটারীর আয়োজন করে উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি। ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় দেয়া তালিকায় নির্ধারিত কৃষকের চেয়ে অনেক বেশী নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিক উন্মুক্ত লটারীর আয়োজন করেন উপজেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবির। ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তালিকা অসম্পূর্ণ থাকায় অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই তালিকা প্রস্তুতকারীদের উপর চড়াও হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এক পর্য়ায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তালিকায় থাকা এক কৃষকের মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে তালিকায় অসংগতির বিষয়টি এ কর্মকর্তার কাছে ধরা পড়ে। যে কারণে তিনি এসব তালিকা বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তত করা নির্দেশ দেয়া হয়।