ছাতকে পল্লীতে হামলা গ্রেফতার ৫

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের পল্লীতে ঘুমন্ত মানুষের উপর বর্বরোচিত হামলা ও বসতঘর ভাংচুর এবং লুটপাট করার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী-শিশুসহ পরিবারের ৪ সদস্য আহত হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর ভোরে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে মৃত ছাইম উল্লাহর পুত্র মবশ্বির আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের নাছির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, শরীফ উদ্দিনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে।
জানা যায়, বাড়িয়ান ১৬ শতক ভূমি নিয়ে মবশ্বির আলী ও একই গ্রামের রফিজ আলীর পুত্র নাসির উদ্দিন পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। পূর্ব পুরুষ থেকে ভোগ-দখলে থাকা মবশ্বির আলীর এ ভূমি বর্তমানে অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় লিপিবদ্ধ হলে অর্পিত সম্পত্তি থেকে এ ভূমিকে অবমুক্ত করতে মবশ্বির আলী সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে একটি আপিল মোকদ্দমা (নং-৫৩/১৭) দায়ের করেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, অর্পিত সম্পত্তির সূত্র ধরে প্রতিপক্ষ এ ভূমি নিজেদের দখলে নিতে একাধিকবার আক্রমাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। ভূমি রক্ষায় মবশ্বির আলী বাদী হয়ে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারায় সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা(নং-৩৯৪/১৮) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতাবস্থা রক্ষার্থে প্রতিপক্ষ লোকজনকে এ ভূমিতে সর্ব প্রকার অনধিকার প্রবেশ না করার জন্য আদালত কর্তৃক ২০১৭ সালে ৪ এপ্রিল নোটিশ প্রদান করা হয়। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন অতিমাত্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ভূমি আবারো জোর দখলের পায়তারা চালায়। বিষয়টি জাহিপুর পুলিশ তন্ত কেন্দ্রে অবহিত করেন মবশ্বির আলী। আদালতের অপর এক আদেশে গত ১২ নভেম্বর জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বেলাল আহমদ আইন-শৃঙ্খলা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু আইনী সকল প্রক্রিয়াকে অমান্য করে ১৪ নভেম্বর ভোরে ১৫-২০ জনের সশস্ত্র দল নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত মানুষ রেখে চালায় নারকীয় হামলা।
খবর পেয়ে জাহিদপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বেলাল আহমদ ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে নাসির উদ্দিন, শরীফ উদ্দিন ও ফারুক উদ্দিনসহ নির্যাতিত মবশ্বির আলী ও আব্দুল আহাদকে আটক করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খয়ের জানান, অন্যায়ভাবে ভারাটে লোক দিয়ে মবশ্বির আলীর বসতঘর ভাংচুর ও গাছপালা নিধন করা হয়েছে। বিষয়টি অমানবিক ও নির্মম।
এ ব্যাপারে সিনিয়র এসএসপি, ছাতক সার্কেল দুলন মিয়া জানান, তাদের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তিনি জানেন। হামলার বিষয়ে অভিযোগের আলোকে তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।