ছাতকে পীরস্থানের ভূমি জবর দখলের চেষ্টা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে শাহ আরেফিন (রঃ) এর মোকাম ও তৎসংলগ্ন কবরস্থান সহ পীরস্থানের ভূমি জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে একটি ভূমি খেকোচক্র। ইতোমধ্যেই ভূমি দখলে নিতে মোকাম পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের উপর হামলা সহ আদালতে পৃথক দুইটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে এই চক্র। এ নিয়ে দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে ফঁুসে উঠেছে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ।
জানা যায়, হযরত শাহজালালের সফরসঙ্গী আউলিয়া ও দরবেশ হযরত সুলতান শাহ আরেফিন (রঃ) শহরের ফকিরটিলা এলাকায় মোকাম ও কবরস্থান রয়েছে। ওই স্থানটি সরকারি রেকর্ডপত্র সহ এলাকার মানুষের কাছে পীরস্থান হিসেবে পরিচিত। যুগ—যুগ ধরে এই পবিত্রস্থানে একটি কমিটির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সর্বজন স্বীকৃত পীরস্থানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ লোকজন আসেন মাজার জিয়ারত সহ বিভিন্ন মানত নিয়ে। কখনো কোনদিন মোকাম, কবরস্থান ও পীরস্থানে ভূমি নিয়ে কেউ মালিকানা দাবি করে আসেনি। সম্প্রতি শহরের বাগবাড়ি গ্রামের আব্দুস সোবহানের পুত্র আব্দুস শহীদ মনা পীরস্থানের ভূমির মালিকানা দাবি করে জবর দখলের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এলাকাবাসীর প্রতিবাদে জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে মোকাম পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজীসহ পৃথক দুটি সাজানো মামলা দায়ের করে। সম্প্রতি মোকামের পবিত্রতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে মোকামের বাউন্ডারী কাজ শুরু করেন পরিচালনা কামিটি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুস শহীদ মনা দেয়াল নির্মাণে বাধা—বিপত্তি ও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এনিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ—বৈঠকে বসেন। এসময় কাগজ—পত্র পরির্যালোচনা করে বিরোধকৃত ভূমি নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নামজারী রেকর্ড সংশোধনের জন্য নামজারী রিভিউ মামলা চলামান থাকায় সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা সমাপ্ত হয়।
এসব অভিযোগ তুলে ধরে শনিবার সকালে ছাতক প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফকির টিলা গ্রামের বাসিন্দা কয়েছ মিয়া। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শাহ আরেফিন (রঃ) মোকাম, কবরস্থান সহ ১.৩৫ একর ভূমি পীরস্থান রকম ভূমি স্থির ও অখন্ড ভূমি হিসেবে এর স্বাভাবিক স্বকিয়তা এখনো অটুট। পীরস্থান রকম ভূমি সর্ব সাধারনের ব্যবহারযোগ্য, ক্রয়—বিক্রয় যোগ্য নয়। রেকর্ড অনুযায়ী পীরস্থান ওয়াকফ সম্পত্তি না হলেও আইন অনুযায়ী দীর্ঘকাল ব্যবহারে ওই সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে যায়। আর ওয়াকফ সম্পত্তি ক্রয়—বিক্রয়, জবর দখল করা বা চেষ্টা করা ওয়াকফ আইন অমান্যের সামিল। পীরস্থান নামে রেকর্ডিয় এ ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফকিরটিলা এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ।
এসময় পৌর কাউন্সিলর শাহ নাজিমুল হক, সাবেক মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলকাছ আলী, বাহারুল হক, সামছুর রহমান বাবুল, বখতিয়ার হোসেন, ফরিদ মিয়া, শাহ আলম, মোজাম্মেল হক রুহেল, জামাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফারুক মিয়া, মোকমের খাদেম ফকির আলী আহমদ, সমুজ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।