ছাতকে ফারুক হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে অপপ্রচার হচ্ছে

সু.খবর ডেস্ক
ছাতকে ফারুক হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচার বাধাগ্রস্ত করতে ‘স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও তার ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী চক্র’ অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাতকের উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল আহমদ।
এছাড়া গডফাদার হিসেবে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বাঁচাতে কালাম ও শামীম চক্র নিহতের সহজ সরল স্ত্রী রেহেনা বেগমকে দিয়ে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও তাকে জড়িয়ে মিথ্যে সংবাদ পরিবেশন করেছে বলে দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিল্লাল আহমদ বলেন,‘নিহত ফারুক আহমদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক সুদীর্ঘ কালের। ফারুকের আপন চাচা খুরমা উত্তর ইউনিয়নের তিন বারের চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল কদ্দুছের প্রতিটি নির্বাচনে আমাদের পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। এর জন্য ফারুকের পিতা মরহুম আব্দুস ছত্তার এবং আপন চাচা আব্দুল কদ্দুছ চেয়ারম্যান আমৃত্যু মুহিবুর রহমান মানিকের একনিষ্ট সমর্থক ও কর্মী ছিলেন। ফারুক আহমদও মুহিবুর রহমান মানিক এর একজন একনিষ্ট সমর্থক এবং দলীয় কর্মী ছিলেন।
তিনি বলেন, গত ২২ জুন রাতে ফারুক নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে পরদিন সকালে তিনি ছাতক থানার গিয়ে বিষয়টি অবগত করেন। পরে পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও ফারুকের বাড়িতে যান। পাশাপাশি ফারুকের সন্ধানে এলাকাবাসীকে নিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। ফারুকের লাশ উদ্ধারের পর মুহিবুর রহমান মানিক এমপি দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। কিন্তু কালাম-শামীম চক্র ফারুকের শশুড় বাড়ির সহযোগিতা নিয়ে ফারুকের স্ত্রীকে হাত করে নির্লজ্জ্ব রাজনীতি শুরু করে। লাশ ময়নাতদন্তের আগেই ছাতক শহরে চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ ও এমপির বিরুদ্ধে মানহানীকর শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে। এর অংশ হিসেবে তারা ফারুকের স্ত্রীকে সিলেটে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমপি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দেওয়ায়।
ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল বলেন,‘ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুজন মিয়া চৌধুরী স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে এলাকায় চিহ্নিত। ১৯৭১ সালে সুজন চৌধুরীর দেশবিরোধী কর্মকান্ড নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরুর ‘রক্তাক্ত ৭১ সুনামগঞ্জ’ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থে লেখা আছে। ১৯৯০ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুজন মিয়া চৌধুরী তখনকার তরুণ নেতা মুহিবুর রহমান মানিকের কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেন। এ পরাজয় সহজভাবে মেনে নেননি সুজন মিয়া ও তার পরিবার। কৌশলে সুজন মিয়া তার দুই ভাতিজা কালাম ও শামীমকে আওয়ামী লীগের লেবাস পড়ান। এর পর থেকেই কালাম-শামীম চক্র আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অর্থ-বিত্তের মালিক হতে থাকে। ১৯৯১ সাল থেকে বিগত ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬ বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত মুহিবুর রহমান মানিককে নৌকা প্রতীকে ভোট না দিয়ে এমপি মানিকের জীবন ও রাজনীতিকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য হামলা মামলাসহ নানা যড়যন্ত্র করছে।
এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও সুষ্ঠু বিচারের জন্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি প্রশাসনকে জোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু হত্যাকা-টিকে ধামাচাপা দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে কালাম-শামীম চক্র ফারুকের সহজ-সরল স্ত্রীকে প্রভাবিত করে ধূ¤্রজাল সৃষ্টি করছে। আমি মনে করি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত খুনীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। কিন্তু অপপ্রচার বন্ধ না হলে প্রকৃত খুনীদের চিহ্নিত করার বিষয়টি দূরহ হবে। একই সাথে নিরপরাধ মানুষের হয়রানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ছোট ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন,‘ আমাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে এসব মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। ফারুক আামাদের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন। আমরা তার হত্যাকা-ের সঠিক বিচার চাই। মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এমপি মানিকের চাপে পুলিশ মামলা নেয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফারুকের উপর কয়েকবার আক্রমণ চালিয়েছিল বলে আমাদের জানিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে আমার চাচা সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবেন না।’