ছাতকে বিদেশি ফল সাম্মাম ও রকমেলন চাষ করে আলোচনায় ৩ কৃষক

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে বিদেশি ফল সাম্মাম ও রকমেলন চাষ করে রীতিমত আলোচিত হয়ে উঠেছেন এখানের ক’জন তরুণ কৃষক। গ্রীষ্মকালীন সু-স্বাদু এসব ফল দেখতে খুবই সুন্দর। মরু অঞ্চলের মানুষের কাছে এ ফলটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফলটি সাধারণত দুই ধরনের হয়। হলুদ রংয়ের খোসায় আবৃত যে ফল এর ভেতরের খাদ্য অংশটি অনেকটা আমাদের দেশের বাঙ্গীর মতো। অন্যটি খোসার অংশ খসখসে ও ভেতরে অংশে হালকা হলুদ এবং বাদামি বর্ণের। মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় এ ফলের চাষাবাদ ও আশানুরূপ ফলন ঘটিয়ে প্রসংশা কুড়িয়েছেন ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা গ্রামের সৌখিন চাষী প্রবাসি রিয়াজ উদ্দিন, চানপুর গ্রামের বুরহান উদ্দিন ও রাজাপুর গ্রামের এনাম। তারা তিনজনে এলাকার ৪ বিঘা জমিতে এবার পরীক্ষামুলকবাবে সাম্মাম ও রকমেলন চাষ করেছেন। পরীক্ষামূলক হলেও প্রথমবারেই তারা বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন। সাম্মাম ও রকমেলন চাষ করে তারা এলাকায় তারা নতুন ফল হিসেবে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এতে এলাকার কৃষকরার এসব ফল চাষে অনেকটা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আগামী এক সপ্তার মধ্যেই তারা সাম্মাম ও রকমেলন ফল বাজরজাত করতে পারবেন বলে তারা জানিয়েছেন।
সাম্মাম ও রকমেলন চাষ করা কৃষকরা জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি তারা সাম্মাম ও রকমেলন চাষ শুরু করেছিলেন তারা। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অবলম্বম ও নিয়মিত পরিচর্যা করা এর ফলনও ভালো হয়েছে। ২ বা আড়াই মাসেই ফল পরিপক্ক হয়-যা বাজারজাত করা সম্ভব।
কৃষক বুরহান উদ্দিন জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে তার ছোট পরিসরে পরিক্ষামুলক ভাবে এ ফল চাষবাদ করা করেছেন। ভবিষ্যতে বৃহৎ আকারে বানিজ্যিকভাবে এ ফল চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ফল চাষাবাদে প্রতি বিঘা হিসেবে ৭০ হাজার টাকা করে ৪ বিঘা জমিতে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সাম্মাম ফলের খুচরা মূল্য ৬৫-৭০ টাকা। সাম্মামের সাথে রকমেলন নামের আরো একটি বিদেশি ফল চাষবাদ করা হয়েছে । রকমেলনের জন্য মাটি থেকে অন্তত ৫ ফুট উচ্চতায় মাচা তৈরি করতে হয়। এ ফল চাষে সূর্য্যরে আলো অন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ফলটিও পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। পলনও সন্তোষজনক বলে জানান বুরহান উদ্দিন। কৃষক এনাম জানান, সাম্মাম ও রকমেলন বাগান দেখতে প্রতিদিন বেশ লোক সমাগম ঘটছে এখানে। রাজাপুর এলাকায় ৪ বিঘা জমিতে সাম্মাম ও রকমেলন ফল আমরা চাষ করে তারা বাপ্পার ফলন পেয়েছেন।
রিয়াজ উদ্দিন জানান, সাধারন চাষাবাদের মতোই সাম্মাম ও রকমেলন চাষ করতে হয়। সময়মতো সামান্য সার ও কীটনাশক দিয়ে গাছের সঠিক পরিচর্যা করলেই ফলন ভালো হয়। একটি গাছে ১০-১৫টি পর্যন্ত ফল ধরে থাকে। ফল বড় হওয়া বা পরিপক্ক হওয়ার আগেই ছিঁড়ে যাতে না পড়ে সে জন্য থলের মতো নেটব্যাগ নিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হয়।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সাধারণ তরমুজের চেয়ে সাম্মানের স্বাদ অনেক ভালো, মিষ্টিও বেশি। মালচিং পদ্বতিতে ইয়েলো কিং ও সাগর কিং এই দুটি জাতের ফল চাষ করা হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনেই এ ফসল বাজারজাত করা যায়। এ ফলে ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিনযুক্ত একটি ফল। শতকরা ৯৫ ভাগ জলীয় অংশ থাকায় এটি মানব দেহের পুষ্টি চাাহিদা পুরনের পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এ ফল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হােসেন খাঁন বলেন সাম্মাম চাষ এ অঞ্চলে এটাই প্রথম। সরকার নিরাপদ ফসল উৎপাদন (আইপিএম) সমন্নিত বালাই ব্যবস্থাপনা মাধ্যমে এটি শতভাগ নিরাপদ ফল হিসবে উচ্চ মুল্যের ফল চাষের একটি অংশ। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী ফলন হতে পারে। উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, আমি কয়েকবার বাগানে গিয়ে উদ্যোগক্তাদের পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় পরামর্শ ও সহযোগীতা নিয়ে এ ফল চাষাবাদ করতে পারলে কৃষকরা উপকৃত হবে।