ছাতকে বয়স্কভাতা আটকে দেয়া প্রবীণ নাগরিকদের মনঃকষ্ট দূর করা হোক

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অবৈধভাবে ৯ প্রবীণের বয়স্কভাতা আটকে দিয়েছেন। ওই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ভাতাবঞ্চিত ওই ৯ ব্যক্তির নামে যথারীতি বয়স্কভাতার কার্ড রয়েছে। কৃষি ব্যাংক মইনপুর শাখায় তাদের নামে ব্যাংক হিসাবও খোলা আছে। ব্যাংক হিসাবে তাদের নামে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা জমাও হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৯ বৃদ্ধ ব্যক্তি ব্যাংক শাখায় গমন করেছিলেন ভাতা তোলার জন্য। ভাতাগ্রহীতাদের লম্বা ভিড়বাট্টা ঠেলেঠুলে তারা যখন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে উপস্থিত হলেন তখন জানানো হলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের ভাতা বন্ধ রাখতে বলেছেন। ব্যাস, সরকারের ভাতা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ এবং অর্থবরাদ্দকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে শিখেয় তোলে চেয়ারম্যানের কথাকে শিরোধার্য করে ব্যাংক ম্যানেজার ভাতা না দিয়ে এই ৯ বৃদ্ধকে খালি হাতে বিদায় করে দিলেন। বৃদ্ধরা চোখের অশ্রু মুছতে মুছতে আর হতাশায় ¤্রয়িমান হতে হতে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরলেন। বলিহারি, দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মইনপুর কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে। তারা যাবতীয় সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল দেশের ৯ সিনিয়র সিটিজেনকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মত বুকের পাটা দেখাতে পারলেন। দেশে যদি বিন্দুমাত্র জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এজন্য দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ব্যাংক ব্যবস্থাপককে অবশ্যই অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হত।
ভাতাবঞ্চিত বৃদ্ধরা গণমাধ্যমকে বলেছেন, চেয়ারম্যান সায়েস্তা মিয়ার অনৈতিক চাহিদা না মিটানোয় অন্যায়ভাবে তাদের ভাতা আটকে দেয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানও ভাতা বন্ধের বিষয়ে নিজের নির্দেশ দানের সত্যতা স্বীকার করেছেন। চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, তার মাধ্যমে ওই বৃদ্ধরা তালিকাভুক্ত হননি বলে তিনি ভাতা দিতে ব্যাংককে নিষেধ করেছেন। যুক্তি বটে তার! কে ভাতা পাবেন আর কার নামে ভাতার কার্ড ইস্যু হবে তা নির্ধারণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে নির্দিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আছে। সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সরকার কর্তৃক গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে এইসব ভাতার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মতামতও গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেহেতু আলোচ্য ৯ ব্যক্তির নামে ভাতার কার্ড ইস্যু হয়ে ব্যাংক হিসাবে টাকা পর্যন্ত জমা হয়ে পড়েছে সেখানে এইসব যাবতীয় প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। উড়ে এসে জুরে বসার মত চেয়ারম্যান এখন বলতে পারেন না তার মাধ্যম ছাড়া এরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এই জায়গায় ভাতাবঞ্চিতরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা দাবির যে অভিযোগ তুলেছেন সেটিকেই যথার্থ মনে হয় আমাদের কাছে।
ব্যাংক ম্যানেজার কোন এক্তিয়ারে এই ভাতা আটকে দিলেন? তিনি তো ভাতা অনুমোদনকারী বা প্রত্যাখ্যানকারী কোনো কর্তৃপক্ষ নন। হিসাবে জমা হওয়া টাকা যথাযথ ব্যক্তির হাতে তোলে দেয়াই তাঁর দায়িত্ব। কারও হিসাবে টাকা জমা থাকলে তিনি তাকে টাকা পরিশোধ না করে পারেন না, যদি না সংশ্লিষ্ট হিসাবধারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকে। এখানে চেয়ারম্যানের মৌখিক কথায় তিনি তাদের ভাতার টাকা আটকে দিয়েছেন। ব্যাংকের যাবতীয় নীতিমালা অনুসারে এ কাজ অবৈধ। কোন এক চেয়ারম্যানের অবৈধ অনুরোধ বা নির্দেশ মানতে তিনি বাধ্য নন। এক্ষেত্রে ব্যাংক ম্যানেজারের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনতে হবে।
এই ৯ বয়স্কভাতাভোগীর ক্ষেত্রে যে অনাকাক্সিক্ষত আচরণ সংঘটিত হয়েছে, ছাতকের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে তা খতিয়ে দেখার জন্য আমরা আহ্বান জানাই। সরকার বয়স বিবেচনায় সিনিয়র সিটিজেনদের যে ভাতা প্রদান করেন তার কল্যাণমুখী চরিত্রকে নষ্ট করা মাঠ পর্যায়ের কোন জনপ্রতিনিধি বা ব্যাংক ম্যানেজারের দায়িত্ব হতে পারে না। বিষয়টির তড়িৎ সমাধানসহ এই অনভিপ্রেত আচরণের জন্য ভাতাবঞ্চিত প্রবীণ নাগরিকদের মনঃকষ্ট দূর করা হোক, এই আমাদের কাম্য।