ছাতকে হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে শুক্রাবন্দে চলছে খাল খনন

জাউয়াবাজার প্রতিনিধি
ছাতকে হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসেনে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে শুক্রাবন্দে খাল খনন শুরু করেছে বাংলাদেশ বিএডিসি। খাল খনন কাজ শেষ হলে এলাকার কয়েকটি হাওরের ফসল উৎপাদনে স্থানীয় কৃষকরা অনেকটাই উপকৃত হবেন, এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তবে খাল খনন করতে গিয়ে মনিরজ্ঞাতি গ্রামের কিছু দরিদ্র পরিবারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের জয়রার হাওর ও চাউলির হাওরের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতি বছরেই বিপাকে পড়তে হতো স্থানীয় কৃষকদের। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে জলাবদ্ধতা নিরসন করে সুষ্ঠু পানি নিস্কাসনে রাউলি থেকে মনিরজ্ঞাতি পর্যন্ত দুই ধাপে শুক্রাবন্দে খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের বিশেষ বরাদ্দ থেকে খাল খনন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খননের কাজ করছে মেসার্স নাবিহা কন্ষ্ট্রাকশন নামের প্রতিষ্ঠান। এসকেভেটরের মাধ্যমে করা হচ্ছে খাল খননের কাজ। খাল খনন করতে গিয়ে সড়কের আশপাশের বেশ কিছু ছোট-বড় গাছও কাটা পড়ছে।
মনিরজ্ঞাতি গ্রামের ফিরোজ মামুন, বন্দর আলী,
গেলাছ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান, খাল খনন করতে গিয়ে বাঁশের সাকো ও ছোট সেতু ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমরা গ্রামের হত-দরিদ্র বেশ কিছু পরিবারের লোকজন গবাদি পশু নিয়ে যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়েছি।
দক্ষিণ খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির জানান, খাল খনন করলে এলাকার লোকজন উপকৃত হবেন। খাল খনন করতে গিয়ে আশপাশ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে।
বিএডিসি সিলেট বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণজিৎ কুমার দেব বলেন, পানি নিষ্কাসনের জন্য খাল খনন করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে ক্ষতিগস্ত লোকজনের খাল পারাপারের সুবিধার্থে বিএডিসি’র পক্ষ থেকে খাল নির্মাণ শেষে সরকারিভাবে কালভার্ট নির্মাণ ও সড়কে গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।