ছাতকে ৪ পল্লী স্কুলের শতভাগ পাস

বিন্দু তালুকদার
এসএসসি পরীক্ষায় সারা দেশজুরেই এবার পাশের হার কমেছে। সিলেট বিভাগের পাসের হার ৭০.৪২, সুনামগঞ্জ জেলার পাসের হার ৬৮.৫১ ভাগ।
জেলা সদরের সরকারি দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করতে না পারলেও ছাতক উপজেলায় গ্রামের চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ ফলাফল অর্জন করেছে। কিন্তু চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুইটি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি।
শতভাগ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হল, উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের পালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সালেহা খাতুন কুর্শি উচ্চ বিদ্যালয়, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মোগলগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চরমহল্লা ইউনিয়নের চরমহল্লা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়।
এর মধ্যে সালেহা খাতুন কুর্শি উচ্চ বিদ্যালয়, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মোগলগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভূক্ত হয়নি।
এই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলা সদর থেকে অন্তত ৪০ কিলোমিটার দূরে। প্রতিষ্ঠান দুইটি গ্রামে হলেও এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করছে।
দোলারবাজার ইউনিয়নের পালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছে, জিপিএ-৫ পেয়ে ৮ জন। সালেহা খাতুন কুর্শি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। মোগলগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ জন ও চরমহল্লা ইউনিয়নের চরমহল্লা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাশ করেছে।
প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্মহীন গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফলাফলে খুশি জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী, শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।
সালেহা খাতুন কুর্শি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার ওসমান গনী বলেন,‘আমাদের স্কুলের এমপিও হয়নি, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি জার্মান প্রবাসী সুরুজ আলী মুজাহিদ জমি দিয়ে অবকাঠামো তৈরি করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই তিনি শিক্ষকদের বেতনসহ সবকিছুই পরিশোধ করছেন। আমরা সপ্তাহে একদিন ছাত্রের বাড়ি পরিদর্শন করি। পরিচালনা কমিটির দুইজন সদস্য সপ্তাহের দুইদিন স্কুল মনিটরিং করেন। আমি নিজে পাঠদান পর্যবেক্ষণ করি। নিয়মিত মা ও অভিভাবক সমাবেশ করা হয়। সকল শিক্ষকরা এলাকায় থেকে পাঠদান করেন। দুর্বল ছাত্রদের পৃথক পাঠদান দেয়া হয়। পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ভাল ফলাফল অর্জিত হচ্ছে। গত বছরও আমরা শতভাগ ফলাফল ও ২টি জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম।’
মোগলগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক বলেন,‘ আমাদের স্কুলটি গ্রামের, তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি ভাল ফলাফল অর্জনের। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ সবাই আন্তরিক চেষ্টা করছেন ভাল ফলাফল অর্জনের। ’
ছাতক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পুলিন চন্দ্র রায় বলেন,‘ সারা দেশে যখন পাশের হার কমেছে তখন গ্রাম এলাকার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ ফলাফল অর্জন করে চমক দেখিয়েছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে চেষ্টা করলে ভাল কিছু করা সম্ভব। কারণ চারটি স্কুলের মধ্যে দুইটি স্কুলের এখন পর্যন্ত এমপিও হয়নি। গ্রামের স্কুলগুলোতে প্রাইভেট ও কোচিং-এর দৌরাত্মও নেই। তারপরও প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা, এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টায় স্কুলগুলো এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভাল ফলাফল অর্জন করছে। ’
ছাতক উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। গ্রামের মানুষ শিক্ষামুখি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান দেয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সবন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এই ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ’