ছাতক ও দ. সুনামগঞ্জে পর্ণোগ্রাফি ব্যবসার অপরাধে গ্রেফতার ১৬

ছাতক ও দ. সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
ছাতকে কম্পিউটারে রিংটোন ব্যবসার আড়ালে পর্ণোগ্রাফি আপলোড-ডাউনলোড ও মেমরী কার্ডের মাধ্যমে সরবরাহ করার অপরাধে ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার দিনব্যাপী ছাতক শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ছাতক থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোবিন্দগঞ্জ ও ছাতক শহর থেকে পর্ণোগ্রাফী আপলোড-ডাউনলোড ও মেমরী কার্ডের মাধ্যমে সরবরাহ করার অপরাধে রনজিত রবি দাস (২০), তোফায়েল আহমদ(১৯), আমির হামজা (২০), জুনেদ আহমদ (২৪), ওলিউর রহমান (৩০), আফজাল আহমদ (২০), নুর উদ্দিন (২৫), বাদশা মিয়া (২২), রিপন মিয়া (২০), আনোয়ার হোসেন (২০), আবির সরকার (২২), আফজাল হোসেন (১৯) ও জাউয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের অভিযানে একই অপরাধে কম্পিউটারসহ তারেক আহমদ (২২), আরমান হোসেন (২০) ও এলিম আহমদ (২০) কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ কম্পিউটারে রিংটোন ব্যবসার আড়ালে তারা নীল ছবি বিক্রি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। উঠতি বয়সের যুবক-যুবতী ও স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা নীল ছবি মোবাইলের মেমোরী কার্ডে লোড নিত এসব কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ফলে নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি যুবসমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বুধবার রাতে ছাতক সার্কেলের সিনিয়র এএসপি দুলন মিয়া ছাতক থানায় এক প্রেস ব্রিফিংকালে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজারে কম্পিউটারের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির ভিডিও সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে কম্পিউটারের পিসিসহ ১ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাগলা বাজারে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটারসহ এই ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটককৃত ব্যক্তির দোকানে কম্পিউটার তল্লাশির পর পর্নো ছবি ও ভিডিও পাওয়ায় কম্পিউটার জব্দ ও ১ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম রাকু সূত্রধর (২২)। সে উপজেলার পাগলা বাজারের জামান কমপ্লেক্সের কম্পিউটার ব্যবসায়ী। তার বাবার নাম হাসু সুত্রধর। সে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন মেস্তইর হাটি গ্রামের বাসিন্দা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘উঠতি বয়সী কিশোর তরুণরা পর্নোগ্রাফি দেখছে। ফলে তারা বিপথগামী হচ্ছে। এমনকি স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এসব নোংরা জিনিষে আসক্ত হয়ে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। বাড়ছে যৌন হয়রানির মতো ঘটনা। আর এসব পর্ন ভিডিওকে কমমূল্যে এসব দোকানিরা সহজেই তুলে দিচ্ছে সাধারণের হাতে। এসব রোধ করতে আমাদের এই অভিযান। একজনের দোকানের কম্পিউটার তল্লাশি করে সত্যতা পেয়ে আটক করেছি। আগামীকাল (আজ) তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’