ছাতক নিটল কার্টিজ পেপার মিলে বন্যায় ক্ষতি ২০ কোটি টাকা, ১৬ দিন ধরে প্রোডাকশন বন্ধ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে বন্যার পানিতে নিটল কার্টিজ পেপার মিলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা, ১৬ দিন ধরে প্রোডাকশন বন্ধ রয়েছে। মিলের শ্রমিক জানান, মিলের মেশিনগুলো বন্যার পানি তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্য কারখানার তুলনায় বন্যায় নিটোল পেপার মিলের ক্ষতি হয়েছে অপূরনীয়। ওয়াটার লেভেল অতিক্রম করে বন্যার পানি ঢুকেছে নিটোল কার্টিজ পেপার মিলে। ১৬ দিন ধরে ওই পেপার মিলের উৎপাদন বন্ধ ক্ষতি পরিমান ক্রমেই বেড়ে চলছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও কর্মচারীরা বেকার সময় পার করছে। শিল্প শহর ছাতকে এই প্রথম কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মেশিন বন্যার পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। নিটল কার্টিজ পেপার মিলের উৎপাদিত পণ্য কয়েক কোটি টাকা মুল্যের পেপার রোল, বেবি রোল ও ফিনিস রোল যা বাজারজাত করার অপেক্ষায় ছিল।
মিলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এন্ড সিকিউরিটি মীর কবির উদ্দিন জানান, প্রায় ২ মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের রোল পেপার পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। মেশিন হাউজ ও রো-ক্যামিক্যাল গোডাউনে ছিলো হাঁটু পরিমাণ বন্যার পানি। পানিতে ভেসে গেছে ১ মেট্রিক টন পরিমাণের ক্যামিক্যাল।
নিটল-নিলয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের এ আর ডি খাইরুল বাসার ভুঁইয়া কায়েছ জানান, মিলে নিয়ে আসার পথে বন্যার পানিতে পরিবহনকৃত ২ টি ট্রাক সড়ক উল্টে গিয়ে ১ হাজার মেট্রিক টন পাল্প ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। সব মেশিন রুমে পানি ঢুকে যাওয়ায় এ পর্যন্ত মিলটি চালু করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ক্ষয়-ক্ষতি উল্লেখ করে নিটল কার্টিজ পেপার মিলের উর্ধতন নির্বাহী আতাউর রহমান ছাতক থানায় ২৮ জুন একটি জিডি ( নং১৪৫৯) করেছেন। জিডিতে মিলের ১৬ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি উল্লেখ করা হয়েছে।
নিটল কার্টিজ পেপার মিলের ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, ১৬ জুন থেকে মিলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মিলের বিভিন্ন মেশিনারিজ রুম, ওয়ার্ক শপ, গোডাউন, স্টোর রুমে বন্যার পানি ঢুকে উৎপাদিত পণ্য, রো-ক্যামিক্যাল, স্পেয়ার পার্টস, ইকুইপমেন্ট, ট্রান্সপোর্ট, গাড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে মিল পরিস্কার ও পানিতে নষ্ট হওয়া মালামাল অপসারণের কাজ চলছে।
মিল চালুর বিষয়ে তিনি জানান, অনেক যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনতে হবে। কাজেই মিলটি চালু করতে আরো ২০ দিন সময় লাগতে পারে। মিলে রয়েছেন প্রায় ৩শ’ শ্রমিক। মিলের শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি জানান, মিল বন্ধ থাকলেও তারা বেতন এবং ঈদ বোনাস পাবেন।