ছাত্রলীগের বিতর্কিত ৭ ইউনিট কমিটি- ১৫ দিনের মাথায় অস্বীকার

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা সম্মেলনের আগের দিন অনুমোদন দেওয়া ছাত্রলীগের ৭টি ইউনিট কমিটি ১৫ দিনের মাথায় অস্বীকার করলো নতুন জেলা কমিটি। বিতর্কিত ৭ কমিটিসহ মোট ৯টি ইউনিটে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই বলে জেলা ছাত্রলীগ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর আগে অবশ্য ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনও এই ইউনিট কমিটিগুলোকে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন।
শনিবার রাতে দলীয় প্যাডে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৯ টি ইউনিটে আগ্রহী পদ-প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত চাওয়া হয়েছে।
জীবনবৃত্তান্তের সাথে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, এস.এস.সি পাস সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে ধর্মপাশা ও দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আগামী ২৬ জুন থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ছাতক, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা, মধ্যনগর থানা ও জনতা ডিগ্রী কলেজ কমিটির পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তবে জেলা ছাত্র লীগের সাবেক আহবায়ক আরিফ উল আলম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অনুমতি সাপেক্ষে গত ১৯ এপ্রিল এসব ইউনিট কমিটিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি অনুমোদনে আমার সাথে স্বাক্ষর করেন জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন চারজন যুগ্ম আহবায়ক।
প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সম্মেলনের আগের রাত ১৯ এপ্রিল তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও একজন যুগ্ম আহবায়কের স্বাক্ষরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, ছাতক, দোয়ারাবাজার উপজেলা, মধ্যনগর থানা, সুনামগঞ্জ পৌরসভা ও জনতা ডিগ্রী কলেজে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
সম্মেলনের আগের রাতে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও একজন যুগ্ম আহবায়কের স্বাক্ষরে জেলার ৮ ইউনিটের কমিটি অনুমোদন করায় পক্ষে-বিপক্ষে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান সংগঠনের দায়িত্বশীলরা। সম্মেলনের পর বিকালে কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, সম্মেলনের আগের দিন অনুমোদন দেয়া সুনামগঞ্জ জেলার সকল কমিটি অবৈধ। এরপরও ঐ কমিটির দায়িত্বশীলরা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তাদের কার্যক্রমে সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু শনিবার রাতে জেলা ছাত্র লীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, ছাতক, দোয়ারাবাজার উপজেলা, মধ্যনগর থানা ও জনতা ডিগ্রী কলেজে ছাত্র লীগের কোনো কমিটি নেই।
এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগের সাবেক আহবায়ক আরিফ উল আলম রবিবার বিকালে এ প্রতিবেদককে বলেন,‘আমি সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক থাকাকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অনুমতি সাপেক্ষে উক্ত ইউনিট সমূহের নেতৃত্বে পদ প্রত্যাশী সকলের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের মতামতের ভিত্তিতে যাচাইবাছাই করে ১৯ এপ্রিল কমিটিগুলোর অনুমোদন দেই। কমিটি অনুমোদনে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটিতে আমার সাথে স্বাক্ষর করেন জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন যুগ্ম আহবায়ক জিসান এনায়েত রেজা, সোহেল রানা, ও মাসকাওয়াত জামান ইন্তি, পৌর কমিটিতে স্বাক্ষর করেন যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান রিপন (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক)। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ উক্ত ইউনিটসমূহে কমিটি গঠন করতে গেলে তা করতে হবে ইউনিট কমিটিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে। এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই।’
জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন ১৯ এপ্রিল অনুমোদন দেয়া কোনো কমিটিতে স্বাক্ষর দেননি বলে দাবি করেছেন। জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সহসভাপতি (সাবেক যুগ্ম আহবায়ক) জিসান এনায়েত রেজাও রোববার সন্ধ্যায় বলেছেন তিনি ঐ ৭ ইউনিট কমিটির কোনটিতেই স্বাক্ষর দেননি।
আশিকুর রহমান রিপন বলেন,‘সম্মেলনের আগের দিন অগঠনতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। আমি এসব কমিটিতে স্বাক্ষর করিনি। প্রকৃতপক্ষে ওইসব ইউনিটে ছাত্রলীগের কোনো বৈধ কমিটি নেই। আগের দিন অনুমোদন দেয়া এসব কমিটিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসাইন অবৈধ বলেছেন।’
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে বলেন,‘ জেলার ৯টি ইউনিটে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই, ছিলও না। তাই ওই ইউনিটের কমিটিগুলোকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার লক্ষ্যে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হয়েছে। জীবনবৃত্তান্তের সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক প্রমাণপত্র দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’