ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে দপ্তরি আহত

বিন্দু তালুকদার
শাল্লা উপজেলার বাহাড়া (সদর) ইউনিয়নের ভেড়াডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে জড়াজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চলছে। ভবনের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে এসেছে। বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণি কক্ষে প্রায় ১৬০ জন ছাত্রের পাঠদান করতে হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছাদের পলেস্তরা খসে কয়েকজন ছাত্র আহত হয় এবং গত বৃহস্পতিবার স্কুল চলাকালীন সময়ে বেলা সাড়ে ১১ টায় বিদ্যালয়ের দপ্তরি অরুণ কুমার বৈষ্ণবের মাথায় ভবনের বারান্দার ছাদের পলেস্তরা খসে পড়লে তিনি মারাত্মভাবে আহত হয়। অরুণ কুমার বৈষ্ণব অজ্ঞান হয়ে পড়লে ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে স্কুল থেকে দৌঁড়ে বাড়ি চলে যায়। স্থানীয়দের আশংকা যে কোন সময় ভবনের ছাদ ও পলেস্তরা খসে পরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা আহত হতে পারে।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯-২০০০ ইং অর্থ বছরে এলজিইডির অর্থায়নে ৪ কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ৪ কক্ষের ১টিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের অফিস এবং অন্য ৩টি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬০ জন। বিদ্যালয়টি বিগত ৪/৫ বছর যাবত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভেড়াডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রঞ্জন কুমার বৈষ্ণব ও স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক স্বপন বৈষ্ণব, তিলক বৈষ্ণব, গৌতম বৈষ্ণব, দেবেন্দ্র বৈষ্ণব ও নিরোদ বৈষ্ণব অভিযোগ করেন বলেন,‘ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি করুণ অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা শিক্ষা কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না বা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জবা রানী দাস বলেন,‘ বিগত ২ মাস পূর্বে বিদ্যালয়ে যোগদান করি। বিদ্যালয়ে যোগদান করে স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকি, কখন জানি ছাদের পলেস্তরা খসে দুর্ঘটনা ঘটবে। স্কুল ভবনের করুণ অবস্থার কারণে ছাত্র উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফেরদৌসের সাথে কথা বলতে চাইলে ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
শাল্লা উপজেলা উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ বিদ্যালয়টির বেহাল দশা সম্পর্কে বা অধিক ঝূঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের বিষয়টি কেউ আমাকে অবগত করেনি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হবে। উপজেলার কয়েকটা বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানি। ৪-৫ টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের পর পরই ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছিল, এসব ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পরে। ঠিকাদারদের অনিয়মের কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’