ছেলেসহ রাগীব আলীর ১৪ বছরের সাজা বহাল

সু.খবর ডেস্ক
ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির করে তারাপুর চা-বাগান দখলের মামলায় সিলেটের আলোচিত রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৪ বছরের সাজা বহাল রেখেছেন সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ আদালত। আসামি পক্ষের আপিল শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ দিলীপ কুমার ভৌমিক নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি নওশাদ আহমদ চৌধুরী সাজা বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাজাপ্রাপ্তদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচটি ধারায় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদ- দিয়েছিলেন। তারাপুর চা-বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপর আরেক মামলার রায়ে ওই বছরের ৬ এপ্রিল রাগীব আলী ও ছেলেমেয়েসহ পাঁচজনের ৭ বছরের কারাদ- হয়। রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাই প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর গত বছরের ২৯ অক্টোবর উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা বাগান জালিয়াতি ও প্রতারণা করে বাগান দখল নেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন ভূমি কমিশনার (এসি ল্যান্ড) এস এম আবদুল কাদের।
মামলায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার অভিযোগ আনা হয়ে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। তবে রাগীব আলীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু সরকার পক্ষ আপিল করলে প্রায় এক যুগ পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা আবারও চালুর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান প্রকৃত মালিকের জিম্মায় দেওয়া ও দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই আদেশের পর ২০১৬ সালের ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে দুটো মামলায় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলেকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ছেলেকে নিয়ে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান।
পালিয়ে ভারতে অবস্থানকালে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ১২ নভেম্বর জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশে এলে আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন। ২৪ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রাগীব আলী। ওই দিনই বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাঁকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র : প্রথমআলো