ছোট নৌকার কদর নেই, বিপাকে মাঝিরা

স্টাফ রিপোর্টার
‘মামা আসেন, আমার নৌকায় আসেন, বেশি টাকা লাগবে না টাঙ্গুয়ার হাওর আপনাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসব। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনে না। সবাই বড় নৌকায় দিয়ে হাওরে ঘুরতে যায়। একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘোরার জন্য পর্যটকদের জনপ্রিয় নৌকা ছিল এই ছোট নৌকাগুলো। অথচ এখন ছোট নৌকার কোন কদর নেই। ফলে সংসার চালাতে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।’
কথাগুলো বলছিলেন তাহিরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হারুন মিয়া। শুধু হারুন মিয়া নন, ছোট নৌকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাহিরপুর উপজেলার ৫০ জন মাঝি।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর উপজেলার সেতুর ওপর পাশে ছোট বড় শতাধিক নৌকার মাঝি পর্যটকদের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। পর্যটকরা যদি তাদের নৌকা দিয়ে হাওরে যান তাহলে তিন বেলার খাবার কপালে জুটে তাদের। কিন্তু টাঙ্গুয়ার হাওরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসলেও ছোট নৌকা দিয়ে কেউ হাওরে ঘুরতে যান না।
স্থানীয় মাঝিরা বললেন, আমরা মাঝিরা এই টাঙ্গুয়ার হাওরকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সহযোগিতা করেছি। এক সময় টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেউ চিনত না। তখন স্বল্প পরিমাণের পর্যটক আসলে আমরা তাদের অল্প টাকায় টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক ঘুরিয়েছি। অথচ এখন আমাদের ছোট এই নৌকাগুলোর কোন কদর নেই।
মাঝিরা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর বিশ্বের দরবারে পরিচিত পেল, পর্যটকও এখন আসছে। কিন্তু যে হারে হাওরে হাউস বোট চলাফেলা করছে, তাতে হাওরের সৌন্দর্য্যরে ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের জীবনমান উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও এখন আমাদের ঘরে তিন বেলার খাবার নেই।
স্থানীয় মাঝি মুরসেদ মিয়া বলেন, ভেবেছিলাম টাঙ্গুয়ার হাওর যদি বিশ্বের দরবারে পরিচিত পায় তাহলে আমাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। কিন্তু সেটা আর হলো না। বরং আমাদের জীবনে আরও কষ্ট নেমে এসেছে।
মাঝি মনির মিয়া বলেন, আমরা ছোট নৌকা করে আগে যখন পর্যটকদের নিয়ে যেতাম তখন হাওরের কাছাকাছি গেলে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতাম কারণ ইঞ্জিনের শব্দে মাছের অভয়াশ্রমের ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরের ক্ষতি করে হাউস বোট অবাধে চলাফেরা করছে। যা হাওরের জন্য শুভনীয় নয়।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরের যাতে অবাধে নৌকা চলাফেরা না কওে, সেই জন্য এই বছর নৌকাগুলোর রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন নৌকা হাওরে চলাফেরা করলে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।