ছোট যানবাহনের এত বড় ভাড়া কেন?

শহরের সুরমা নদীর উপর আব্দুজ জহুর সেতু নির্মাণ ও রাস্তা-ঘাট উন্নয়নের ফলে সড়কপথে মানুষের যোগাযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, দোয়ারাবাজার, ছাতক; এসব উপজেলায় এখন মানুষ সড়কপথের বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করেন। কিন্তু যেটি পরিতাপের বিষয় সেটি হলো, এসব সড়কে এখনও বড় বাস চলাচল করতে পারে না। সড়কগুলো বড় বাস চলাচলের মতো প্রশস্ত নয়। তাই সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, লেগুনা বা মোটরসাইকেলে চড়ে মানুষ গন্তব্যে যাতায়াত করেন। মানুষের এই যাতায়াত চাহিদাকে উপজীব্য করে ওইসব যানবাহনের মালিক-চালকরা যাত্রীদের নিকট থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে। জেলা সদর থেকে এইসব গন্তব্যের দূরত্ব অনুসারে এই ভাড়া প্রকৃত ভাড়ার দ্বিগুণের চাইতেও বেশি। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে জেলা সদর হতে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী ছোট যানবাহনগুলোর অযৌক্তিক ভাড়া নেয়ার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, জেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ওই দূরত্বের জন্য ৫০ হতে ৬০ টাকা ভাড়া নেয়। অথচ সমদূরত্বের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদর পর্যন্ত একই ধরনের যানবাহনের ভাড়া ২৫ টাকা। জেলা সদর হতে তাহিরপুরের দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার, অটোরিক্সার ভাড়া ১০০ থেকে ১১০ টাকা। জামালগঞ্জের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার, ভাড়া ৬০ টাকা। দোয়ারাবাজারের দূরত্ব ১৭-১৮ কিলোমিটার, সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া ৬০ টাকা। ছাতকের ভাড়া ১২০ টাকা। উপরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদর পর্যন্ত ২৫ টাকা ভাড়া গ্রহণের যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে মূলত সেটিই ন্যায্যভাড়া। কিন্তু অপরাপর সড়কগুলোতে এর চাইতে দ্বিগুণ বা তার চাইতে বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে যা অন্যায়। এই অন্যায্য ভাড়া গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ কখনও পরিলক্ষিত হয় না। অথচ সরকারি রাস্তায় যানবাহনের ভাড়া সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার কথা। এখন বিভিন্ন গন্তব্যে যে ভাড়া নেয়া হচ্ছে তা কি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত? বিভিন্ন গন্তব্যে এই অযৌক্তিক গলাকাটা ভাড়া গ্রহণের বিষয়টির উপর তড়িৎ নজর দেয়ার জন্য আমরা বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজও চলমান। দোয়ারাবাজারের কাটাখালি থেকে ছাতক পর্যন্ত আগে থেকেই সড়ক প্রশস্ত রয়েছে। সুতরাং চলমান সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায় অনায়াসে বড় বাস চলাচল করতে পারবে। জেলা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সভাপতি জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জও অনুরূপ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কয়লা ও বালু-পাথরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য ও পর্যটন এলাকা হিসাবে তাহিরপুর সড়কটি এখন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কে উন্নত মানের পরিবহন চালু করা সময়ের দাবি। হয়তো কিছুদিনের ব্যবধানে এইসব রাস্তায় বড় বাস নামবেও। তখন যাতে অন্য রাস্তার পরিত্যক্ত বাসগুলো আবার এইসব রাস্তায় নামানো না হয় সেজন্য শুরু থেকেই নজর রাখতে হবে। আর ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টিও প্রচলিত নিয়ম-নীতির আলোকে করতে হবে।
তবে বড় বাস নামার আগ পর্যন্ত মানুষের জন্য সিএনজি অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল ও লেগুনাই ভরসা। বড় বাস নামলেও এসব যানবাহনের চাহিদা থাকবে। তাই ছোট যানবাহনগুলোর ভাড়া নির্ধারণের বিষয়েও জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। যাত্রীরা যাতে সহনীয় ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারেন সেজন্য প্রশাসন দ্রুত এইসব যানবাহনের মালিক-চালকদের সাথে বসে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।