জগন্নাথপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম আর নেই

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল হাশিম (৬০) আর নেই (ইন্না-লিল্লাহী…….. রাজিউন।) মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগাহী রেখে গেছেন।
গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত দেড়টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার বিকেলে তিনটায় কামারখাল গ্রামের মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে ইউনিয়ন এই জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার রাতে মরদেহ নিজ জন্মভিটা কামারখাল গ্রামে এসে পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণ ঘটে। শেষবারের মতো এক নজর দেখতে শোকাহত মানুষের ঢল নামে।
বিকেল তিনটায় কামাল গ্রামের মাঠে প্রয়াতের জানাজা নামাজের পূর্বে মরহুতের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীন ব্যক্তি সিরাজুল ইসলাম, মরহুমের ছেলে মোজ্জাম্মেল হোসেন পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বকুল, উপেজলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান, আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ইমানি. ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল হোসন প্রমুখ।
স্বাধীনতার পূর্বে আব্দুল হাসিম ছোট বেলায় যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাসে বসবাস করলেও নাড়ির টানে দেশেই আর্থসমাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ওই সময় সাজ্জাদুর রহমানের নিকট পরাজিত হন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ফের তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বপালন করে আসছিলেন। স্পষ্টভাষী চেয়ারম্যান আবদুল হাশিম একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। প্রয়াতের একমাত্র ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ছাড়া স্ত্রী, ছেলে মেয়েরা লন্ডনে অবস্থান করছেন।
গত জুলাই মাসে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে লন্ডন চলে যান। ১৫ দিন আগে ছেলে মোজাম্মেল কে নিয়ে দেশে ফিরেন।
তাঁর মৃত্যুতে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সাংসদ মতিউর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায় সহ সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হাসান সুনু,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিত দেব, কোষাধ্যক্ষ আবদুল হাই,পরিষদ সদস্য কালের কন্ঠ উপজেলা প্রতিনিধি আলী আহমদ, পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরিন, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া,রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া, পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখলিছুর রহমান, আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী, উপজেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক নুরুল হক, কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সমতপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।